নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কাজের টোপ দিয়ে ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়ে কিডনি পাচারের অভিযোগ। ওই কাণ্ডে ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে সল্টলেকের বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। এবার এই কিডনি পাচার চক্রে এক বাংলাদেশিকে যুবককে গ্রেপ্তার করা হল। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম রাসেল আহমেদ। এসটিএফের সহায়তায় শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানা। বাগুইআটির একটি আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সে থাকছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সে কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করত। সে ‘কাস্টমার’ ধরার কাজ করত। এর আগে সে দিল্লিতেও গ্রেপ্তার হয়েছিল। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার হল। তাকে জেরা করে চক্রের বাকিদের খোঁজ চলছে।
হাসপাতালে হাউস কিপিংয়ের কাজ দেওয়ার নামে সল্টলেকের ত্রিনাথপল্লির বাসিন্দা মঙ্গল মণ্ডলকে ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়েছিল প্রভাস মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, পাঞ্জাবের একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁর কিডনি বিক্রি করে দেওয়া হয়! মঙ্গলের জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, তাঁর গোটা শরীরে নল। পেটের পাশ কাটা। সল্টলেকে ফিরে আসার পর গত ২৪ আগস্ট মঙ্গলের বাবা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওইদিনই অভিযুক্ত প্রভাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা থানার হরিণডাঙায় তার বাড়ি হলেও সে সল্টলেকেই ভাড়া থাকত। ধৃত প্রভাসেরও একটি কিডনি নেই! একসময় সেই ছিল ‘ভিকটিম’। পরে নিজেই ঢুকে যায় এই চক্রে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে জেরা করেই বাংলাদেশের এই যুবকের খোঁজ মেলে। তারপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেশ কয়েকমাস ধরেই সে এরাজ্যে বসবাস করছিল। ভুয়ো নথিপত্র বানিয়ে থাকছিল বলে পুলিশের অনুমান। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃত রাসেল প্রথমে রোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করত। তারপর ডোনারের খোঁজে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সদস্যদেরই টার্গেট করত। কাজের নাম করে তাদের নিয়ে গিয়ে কিডনি বিক্রি করে দিত। তারপর হাতে ধরিয়ে দিত সামান্য কিছু টাকাও। এ পর্যন্ত সে অনেকেরই কিডনি পাচার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই পাচার চক্রের যোগ বাংলাদেশেও থাকতে পারে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ থেকে গরিব মানুষকে ফুসলে এনে তাদের কিডনি বেচে দিত। এখনো অব্দি সে কতজনের কিডনি বেচেছে, আর কে কে এই চক্রে জড়িত রয়েছে, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রাসেল পুলিশকে জানিয়েছে, কার কার কিডনি প্রয়োজন, তার খোঁজ রাখতে সে। সেইমতো কাস্টমার জোগাড় করত। ভালো কমিশনও মিলত। ওই লোভেই সে এই চক্রে জড়িয়ে পড়ে।