সংবাদদাতা, বনগাঁ: কলকাতা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ এসেছিলেন বাগদার বাসিন্দা সুমন তরফদার। বনগাঁ থেকে ১২:৪৭ মিনিটের শিয়ালদহ লোকাল ধরবেন তিনি। বনগাঁ মতিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নেমে টোটো ধরতে যান। সামনেই চোখে পড়ে ক্লক টাওয়ারের বিশাল ঘড়ি। ঘড়িতে তখন বারোটা বাজে। অনেকটাই সময় আছে ভেবে ধীরে ধীরে চলার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তারপরে স্টেশনে এসে দেখেন, ট্রেন চলে গিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ প্ল্যাটফর্মে বসে পরের ট্রেনে কলকাতা যান তিনি। পরে সন্ধ্যায় ফিরে বাড়ি যাওয়ার সময় লক্ষ্য করেন, ক্লক টাওয়ারের ঘড়িতে সেই বারোটাই বাজে। বুঝতে পারেন আসলে ঘড়িরই ‘বারোটা’ বেজে গিয়েছে। সুমন বলেন, ক্লক টাওয়ারের ঘড়ির সময় দেখে ভুগতে হল। এভাবে খারাপ ঘড়ি রাখার মানে হয় না। বনগাঁ মতিগঞ্জ চৌমাথা মোড়ে ক্লক টাওয়ারের ঘড়ির ভুল সময়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই।
২০২২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে শহরের সৌন্দর্যায়নের জন্য বনগাঁ পুরসভার মতিগঞ্জ চৌমাথা মোড়ে লন্ডনের বিগ বেন-এর আদলে ক্লক টাওয়ার বসেছিল। টাওয়ারের মাথায় চার দিকে চারটি বিশাল ঘড়ি বসানো হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে ঘড়ির সময় দেখতে পারবে পথচলতি মানুষ। সময় জানাতে প্রতি ঘণ্টায় বাজবে ঘণ্টা। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই ঘড়িগুলি খারাপ হয়ে যাওয়ায় সঠিক সময়ের পরিবর্তে সময় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। এক একটি ঘড়ি একেক রকম সময় দিতে থাকে। পুরসভার পক্ষ থেকে একাধিকবার ঘড়িগুলি সারিয়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এই বিষয়টি নিয়ে বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই ঘড়িগুলি খারাপ। একবার ঠিক করলেও সমস্যা মেটেনি। তবে এনিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঘড়িগুলি ঠিক করা হবে। এনিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শহরের সৌন্দর্যায়ন বাড়িয়ে তুলেছিল ক্লক টাওয়ার। কিন্তু ঘড়িগুলি খারাপ হয়ে থাকায় অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এনিয়ে কটাক্ষ করে কেউ কেউ মন্তব্য করলেন, বন্ধ ঘড়িও দিনে দু’বার ঠিক সময় দেয়। -নিজস্ব চিত্র



