নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কেটে গিয়েছে পাঁচদিন! নেপালের রসুয়া-কেরুং সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকে খোঁজ নেই বারাসতের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সুস্মিতা ভট্টাচার্যের। সময় যত গড়াচ্ছে, উদ্বেগ ততই বাড়ছে পরিবারের। ফোন বেজে উঠলে বুক ধড়ফড় করছে সবার। চরম উৎকণ্ঠায় কাটছে দিন-রাত। খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ। তার মধ্যেই নেপাল থেকে একের পর এক মৃত্যু ও নিখোঁজের খবর আসছে। দুশ্চিন্তা বাড়ছে বারাসতের ভট্টাচার্য পরিবারে।
২৬ আগস্ট নেপালের রসুয়া-কেরুং সীমান্ত এলাকায় হড়পা বান হয়। ব্যাপক ধস এবং আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। বহু মানুষ নিখোঁজ। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং যোগাযোগের সমস্যার মধ্যেই চলছে উদ্ধারকাজ। বিপর্যয়ের পর থেকে সুস্মিতার সন্ধানে ছুটে চলেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। কিন্তু কোথায় খুঁজবেন? পরিবারের কাছে উত্তর অধরা। সুস্মিতার স্বামী তপন ভট্টাচার্য বলেন, ‘২৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে ভিসা স্ট্যাম্প হয়েছে। বিপর্যয় ঘটেছে ৯টার আশপাশে। এই সময় রাস্তায় ওদের অবস্থান কোথায় ছিল, জানা নেই।’ সুস্মিতার খোঁজ পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ভবানী ভবন, বিদেশ মন্ত্রক এবং দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সুস্মিতার আধার কার্ডের নম্বর চাওয়া হলে তাও পাঠানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক ও দূতাবাসের তরফে পাওয়া বিভিন্ন তালিকাতেও খোঁজ করে চলেছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোথাও আশার আলো দেখা যায়নি!
এখনও সেরে ওঠেনি নেপাল। হড়পা বান ও ধসে বহু জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে। আর সেই সঙ্গে ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। পাঁচদিন ধরে তাঁরা একটাই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন—সুস্মিতা ভালো আছে তো! ফাইল চিত্র