Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভিন ধর্মের দাম্পত্য: বিজেপির আপত্তি, বাড়িতে ঢুকে মারধর!

মধ্যযুগে বাঙালি বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাস বলেছিলেন, ‘সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। বাংলার আত্মার আত্মীয় রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিবেকানন্দ বারবার সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু পানিহাটির আজাদ হিন্দ নগরে সেইসব ভাবনার ধার ধারছে না বিজেপি শিবির।

ভিন ধর্মের দাম্পত্য: বিজেপির আপত্তি, বাড়িতে ঢুকে মারধর!
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মধ্যযুগে বাঙালি বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাস বলেছিলেন, ‘সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। বাংলার আত্মার আত্মীয় রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিবেকানন্দ বারবার সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু পানিহাটির আজাদ হিন্দ নগরে সেইসব ভাবনার ধার ধারছে না বিজেপি শিবির। বিধবা হিন্দু মহিলাকে বিয়ে করে হিন্দু মহল্লায় থাকা মুসলিম যুবককে এলাকা থেকে সরাতে মারধর ও হুমকির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘোলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, দু-পক্ষেরই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement

পানিহাটির ২ নম্বর আজাদহিন্দ নগরের বাসিন্দা বৈশাখি চক্রবর্তী। তাঁর মেয়ে অপর্ণার সঙ্গে বিশ্বজিৎ ঘোষের বিয়ে হয়েছিল। বছর পাঁচেক আগে বিশ্বজিৎবাবু মারা যান। ওই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর  দুবছর পর অপর্ণাদেবী এক মুসলিম যুবককে বিয়ে করেন। অপর্ণাদেবী বাপের বাড়ি লাগোয়া ভাড়া বাড়িতে নতুন সংসার পেতেছেন তাঁরা। তিনবছর ধরে তাঁরা ওই এলাকায় থাকলেও কারও কোনো অভিযোগ ছিল না। গত সপ্তাহ থেকে স্থানীয় বিজেপি নেতারা প্রথমে ওই বাড়িতে গিয়ে দম্পতিকে এলাকা ছাড়ার ফতোয়া দেয়। এলাকায় কোনো মুসলিম লোককে রাখা যাবে না বলে জানায় তারা। তাতে লাভ না-হওয়ায় ভাড়াঘরের মালিককেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শনিবার রাতে তারা ওই দম্পতির ঘরে চড়াও হয়। এরপর অপর্ণাদেবীকে মারধরের পাশাপাশি তাঁর বাপের বাড়ির সদস্যদেরও মারধর করা হয়। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 
খবর পেয়ে ঘোলা থানার পুলিশ এসে ওই যুবককে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কান্নায় ভেঙে পড়া অপর্ণাদেবী বলেন, দেশের আইন ও সংবিধানে বলেনি যে মুসলিমকে বিয়ে করা যাবে না। আমরা তিনবছর এই এলাকায় আছি। এতদিন কোনো সমস্যা হয়নি। অথচ, ওরা আমাদের এখান থেকে সরে যেতে হুমকি দিচ্ছিল। শনিবার রাতে ঘরে ঢুকে মারধর করে গেল। দেশে বিচার বলে কি কিছু নেই! স্থানীয় বিজেপি নেতা গোপাল দাস বলেন, পাড়ায় কোনো মুসলিমকে ঘাঁটি করতে দেওয়া হবে না। তাই এলাকাবাসী ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখিয়েছে। আমরা শুধুমাত্র মানুষের ভাবনাকে সমর্থন জানিয়েছি। মারধরের অভিযোগ মিথ্যে। বরং ওরাই আমাদের মেরেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ