Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নয়া বেতন চুক্তির দাবিতে গেঁওখালি জল প্রকল্পে বিক্ষোভ শ্রমিকদের

নয়া বেতন চুক্তির দাবিতে শনিবার সকাল থেকে মহিষাদলের গেঁওখালি জলপ্রকল্পের গেট ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। শুক্রবারও একইভাবে বিক্ষোভ চলেছিল।

নয়া বেতন চুক্তির দাবিতে গেঁওখালি  জল প্রকল্পে বিক্ষোভ শ্রমিকদের
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: নয়া বেতন চুক্তির দাবিতে শনিবার সকাল থেকে মহিষাদলের গেঁওখালি জলপ্রকল্পের গেট ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। শুক্রবারও একইভাবে বিক্ষোভ চলেছিল। বিক্ষোভ চলাকালীন প্রকল্পের নতুন ও পুরনো দু’টি ইউনিটের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পর পর দু’দিন বিক্ষোভের জেরে জলপ্রকল্পে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। 

Advertisement

বস্তুত, এই জলপ্রকল্প থেকেই হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে সব কারখানা ও বাসিন্দাদের জল সরবরাহ করা হয়। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পুরনো বেতনচুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে নতুন বেতনচুক্তির দাবিতে জলপ্রকল্পের শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হলদিয়া ওয়াটার সার্ভিস বেতনচুক্তি বা সিওডিতে সম্মত হচ্ছে না। একাধিকবার আলোচনার পরেও মেলেনি সমাধানসূত্র। সেজন্য গেট ঘেরাও করে আন্দোলনে নেমেছেন বলে দাবি শ্রমিকদের। 
অন্যদিকে, হলদিয়া ওয়াটার সার্ভিসের পাল্টা অভিযোগ, বেতন বাড়ানোর নাম করে শ্রমিকদের একাংশ গেট ঘেরাও করে গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছে। তারা সংস্থার আধিকারিকদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে গেট থেকে বের করে দিয়ে রীতিমতো গুন্ডামি চালাচ্ছে। দু’দিন ধরে জলপ্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিকদের সিওডি’র আন্দোলন অনৈতিক বলেই দাবি হলদিয়া ওয়াটার সার্ভিসের। হলদিয়ার যুগ্ম শ্রম কমিশনার সুদীপ্ত সামন্ত বলেন, ওই শ্রমিকদের সিওডি হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই। তবে দু’পক্ষ সমঝোতায় না আসায় সমস্যা হচ্ছে। আগামী ২৬ নভেম্বর এনিয়ে বৈঠক হবে।
হলদিয়ায় শ্রমদপ্তরে সিওডি নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ভেস্তে যেতেই শুক্রবার দুপুর থেকে আন্দোলনে নামেন জলপ্রকল্পের শ্রমিকরা। গেট বন্ধ করে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয়। পরে শনিবার সকাল ৮টা থেকে ফের গেট ঘেরাও করে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, জল সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা হওয়ায় কেউ কাজ বন্ধ করেনি। প্ল্যান্ট চালু রেখেই আন্দোলন চলেছে। 
এদিকে ওয়াটার সার্ভিসের চিফ অপারেটিং অফিসার নিখিল মোহন্ত বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে জলপ্রকল্পের দু›টি প্ল্যান্টেই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সিওডি করতে হবে বলে শ্রমিকরা অনৈতিকভাবে বড়ো অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি করতে চাইছে। এনিয়ে সমঝোতায় না আসায় শ্রমিকদের একাংশ ঝামেলা পাকাচ্ছে। সংস্থা তার সাধ্যমতো বেনিফিট দেওয়ার ব্যাপারে শ্রমদপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ