Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটালে বিজেপি নেতৃত্বের কাজিয়ায় হতাশ কর্মীরা

ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির অভ্যন্তরে চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে।

ঘাটালে বিজেপি নেতৃত্বের কাজিয়ায় হতাশ কর্মীরা
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির অভ্যন্তরে চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগে দলের নির্বাচিত বিধায়ক এবং এক পদাধিকারী সহ-সভাপতির মধ্যে এই তিক্ত সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যে এতটাই দূরত্ব তৈরি হয়েছে যে একে অপরের সঙ্গে মুখ দেখাদেখি বন্ধ। ভোটের মুখে নেতৃত্বের এই চরম সংঘাত দেখে নিচুস্তরের কর্মীরা হতাশ। যদিও এনিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি বিধায়ক শীতল কপাট। তিনি বলেন, আমাদের দলে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। সবাই এক সঙ্গে কাজ করছেন।

Advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শীতলবাবু ৯৬৬ ভোটের এই আসনটি দখল করেন। বিজেপির কর্মীরা বলেন, গতবারের এই অল্প মার্জিনের জয় প্রমাণ করে ঘাটাল আসনটি এবার ধরে রাখতে দলের প্রতিটি স্তরের কর্মীদের একযোগে কাজ করা কতটা জরুরি। কিন্তু, বর্তমানে বিধায়ক ও সহ-সভাপতির বিভেদ সেই ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে। যেযার গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে আলাদা-আলাদাভাবে কাজ করে চলেছেন। 
দলীয় কর্মীদের অভিযোগ, দলের জেলা কমিটির সহকারী সভাপতি রামকুমার দে, জেলার সাধারণ সম্পাদক তনুশ্রী সাঁতরা, যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক সমীর দলুই, দলের আইটি সেলের ইনচার্জ অভিজিৎ অধিকারী রাতদিন এক করে শীতলবাবুকে জিতিয়েছেন। এখন তাঁদেরকেই পাত্তা দিচ্ছেন না বিধায়ক বলে অভিযোগ। ফলে দুই গোষ্ঠীর নেতাদের মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ হয়েছে জানা গিয়েছে। রামকুমারবাবু বলেন, আমাদের অনেক কর্মসূচিতেই বিধায়ক অংশগ্রহণ করেন না। তাই আমরা নিজের মতো করে কাজ করি।
নিচুতলার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যখন দলের পক্ষ থেকে কোনও কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে তখনই দেখা যাচ্ছে বিধায়ক ঠিক একই সময়ে সমান্তরালভাবে নিজস্ব উদ্যোগে আলাদা অনুষ্ঠান করছেন।  রামকুমারবাবু বলেন, বিহারে নির্বাচনে জেতার পর আমরা প্রথম বিজয় মিছিল বের করি। পরে বিধায়কও আলাদা করে একটি বিজয় মিছিল করেন। এতে দল অস্বস্তিতে পড়ে।
যদিও তাঁর এই আচরণকে সমর্থন করে শীতলবাবুর একজন ছায়াসঙ্গী জানিয়েছেন, রাজ্যের নির্দেশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে যে সকল বিধানসভা এলাকায় বিজেপি জয়ী হয়েছে সেই এলাকায় নির্বাচিত বিধায়কই স্থানীয় সংগঠনকে তাঁর প্রয়োজন ও কৌশল অনুযায়ী দলীয় কর্মসূচি করতে পারবেন। রামকুমারবাবুরা বরং বিধায়ককে সাংগঠনিক কাজে সহযোগিতা করছেন না।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়ে শীতলবাবু বলেন, যারা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা বলছেন, আমার মনে হয় তাঁরা দলের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী নন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ