নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রিষড়ার একটি কাপড় কারখানায় বিস্ফোরণের জেরে অগ্নিদগ্ধ শ্রমিক অজয় রাজবংশীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতার বাগুইআটির বেসরকারি হাসপাতালের তরফে এই মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আরও তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই জানাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অজয়ের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চন্দননগরের লালদিঘি এলাকায় তাঁর পরিবারের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতের দেহ ফেরানোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ঘটনায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন থেকে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন, সকলেই নড়েচড়ে বসেছে। আইএনটিটিইউসির হুগলি জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর আগেও একটি সুতো কারখানা এবং একটি চটকলে শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার একজন শ্রমিকের মৃত্যু হল। আরও তিনজনের অবস্থা গুরুতর। এই অবস্থায় শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংগঠনের তরফে পদক্ষেপ করা হবে। আমরা ওই কারখানায় একটি টিম পাঠাব। বাস্তব পরিস্থিতি কী আছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি আমরা সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ করব। যাতে মৃত শ্রমিকের পরিবার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পায়। কোনও ত্রুটি থাকলে শ্রমদপ্তরের তরফে যেন আইনানুগ পদক্ষেপ হয়। অন্যদিকে, বাম শ্রমিক সংগঠন আরএসপির নেতা মৃন্ময় সেনগুপ্ত বলেন, গোটা হুগলিজুড়ে শ্রমিক নিপীড়ন হচ্ছে। মালিকপক্ষ শুধু মুনাফা করছে। এই ঘটনা ভয়াবহ উদ্বেগজনক। আমরা বাম শ্রমিক সংগঠনের তরফে এই বিষয়ে যাবতীয় আইনি এবং সাংগঠনিক পদক্ষেপ করব। পাশাপাশি চন্দননগরের তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে মৃতের পরিবারকে যাবতীয় সহযোগিতা করা হবে। উল্লেখ্য, বুধবার সকালে রিষড়ার একটি কাপড়ের কারখানার বেসমেন্টের ঘরে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। যার জেরে চারজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হন। প্রাথমিকভাবে অনুমান, ওই ঘরে সুইচ বোর্ডের শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। আহতদের প্রথমে শ্রীরামপুর ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে প্রয়োজনীয় কাঠামো না থাকায় কলকাতায় নিয়ে এসে ভর্তি করানো হয়। বৃহস্পতিবার তাঁদের মধ্যেই একজনের মৃত্যু ঘটেছে।