সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: কাজ করো, না হলে গদি ছাড়ো—তৃণমূলের ঝাড়াই-বাছাই অভিযানে এবার নজরে পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরা। লক্ষ্য একটাই, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে শাসকদলের প্রশাসনিক স্তর সম্পর্কে জনমানসে ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরা।
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: কাজ করো, না হলে গদি ছাড়ো—তৃণমূলের ঝাড়াই-বাছাই অভিযানে এবার নজরে পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরা। লক্ষ্য একটাই, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে শাসকদলের প্রশাসনিক স্তর সম্পর্কে জনমানসে ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরা।
ইতিমধ্যেই লোকসভা নির্বাচনে নিজেদের এলাকায় পিছিয়ে পড়ার খেসারত দিতে হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার তিন পুরসভার চেয়ারম্যানকে। সরানো হয়েছে আউশগ্রাম এবং কাটোয়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানকেও। এবার তৃণমূলের নিশানায় জেলার পঞ্চায়েত প্রধান এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরা। তাঁরা নিজেদের এলাকায় কিভাবে কাজ করছেন, কতটা উন্নয়ন করতে পেরেছেন—সব কিছুই শাসক দলের সহযোগী সংস্থা অন্তরালে লিপিবিদ্ধ করছে। পাশাপাশি, নজর রাখছে রাজ্য নেতৃত্বও। কোনও পঞ্চায়েত প্রধান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হলে কিংবা উন্নয়নমূলক কাজকর্মে অনীহা দেখা দিলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হবে। ঘরোয়া আলোচনায় জেলা তৃণমূলের এক শীর্ষনেতা বলছিলেন, দলে শৃঙ্খলা ফরাতে সক্ষম হয়েছে নেতৃত্ব। এবার লক্ষ্য জনমুখী উন্নয়ন। সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা। নিবিড়িভাবে জনসংযোগে থাকা। এসব কাজ যাঁরা ভালোভাবে করতে পারবেন না বা করতে পারছেন না, তাঁদের চেয়ার আঁকড়ে থাকার কোনও মানে নেই। বিকল্প কাউকে তাঁর জায়গায় ভাবতেই হবে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, জেলার বহু পঞ্চায়েতে মহিলা প্রধান রয়েছে। তাঁদের অনেকের কাজে মনোযোগ নেই। স্বামীরাই সবকিছু করেন। অনেক ক্ষেত্রে আবার এলাকার কোনও এক নেতার হাতে পঞ্চায়েতের রাশ থাকে। সেই পঞ্চায়েতগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। একই অবস্থা পঞ্চায়েত সমিতিতেও। জেলার কয়েকটি পঞ্চায়েত সমিতি পূর্ত কর্মাধ্যক্ষরা পরিচালনা করেন। সভাপতি নাম কা ওয়াস্তে চেয়ারে রয়েছেন। সেই পঞ্চায়েত সমিতিগুলিও সহযোগী সংস্থার স্ক্যানারে রয়েছে। দলের এক নেতার কথায়, ‘জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণ করা মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতার কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন ঠিকাদার কাজ পাবেন, তার বিনিময়ে কত কমিশন দিতে হবে, সে সব নিয়েই তাঁরা ব্যস্ত থাকছেন। মোটা টাকা কমিশন নেওয়ার ফলে সরকারি কাজের দফারফা হয়ে যাচ্ছে। গুণগতমান বজায় থাকছে না। রাস্তা সংস্কারের কয়েকদিন পর বেহাল হয়ে যাচ্ছে। সরকারের দ্বিগুণ টাকা খরচ হচ্ছে। এসব কাজের সঙ্গে কারা যুক্ত রয়েছে, সেটাও নেতৃত্ব খতিয়ে দেখছে।’
বিষয়টি কার্যত মানছেন জেলার তৃণমূল নেতা দেবু টুডুও। তিনি এদিন বলছিলেন, ‘আমাদের দল স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। যদিও কেউ অনিয়ম করে তা হলে দল ব্যবস্থা নেবে। রাজ্য সরকার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ করেছে। সেই টাকা ঠিকমতো খরচ হচ্ছে কিনা, তা দেখা জনপ্রতিনিধিদের কাজ। কোনও পঞ্চায়েত প্রধান বা সভাপতি যদি সেই কাজ করতে না পারে, তা হলে নেতৃত্ব কড়া পদক্ষেপ নেবে। যাঁকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে তা করতেই হবে।’
লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল শহরাঞ্চলে পিছিয়ে গেলেও গ্রাম বর্ধমানের বাসিন্দারা শাসক দলকে ঢেলে ভোট দিয়েছেন। সেই কারণে গ্রামীণ এলাকায় আরও বেশি করে পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতিগুলি পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা পেয়েছে। এছাড়া আমাদের পাড়া আমাদের পাড়া সমাধান ক্যাম্পে মানুষের কথা শুনে সমস্যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সে সব কাজ করার জন্য টাকা বরাদ্দও হয়েছে। উন্নয়নমূলক কাজে সরকারের সদ্দিচ্ছার ঘাটতি নেই। তারপরও যদিও কোনও পঞ্চায়েত প্রধান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির খামতি থাকে, তা বরদাস্ত করবে না শীর্ষ নেতৃত্ব। এমনটাই তৃণমূল সূত্রে খবর।