


সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুর শহরে ঢুকতে রেললাইন টপকানোর সমস্যা শেষমেশ মিটতে চলেছে। শহরের দু’প্রান্তের দুই প্রবেশদ্বারের একটিতে তৈরি হচ্ছে রেলের আন্ডারপাস। অপর প্রান্তে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পঞ্চাননতলায় রেলওয়ে ওভারব্রিজ (আরওবি)-র কাজও শুরু হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে দু’টি কাজ।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাকুড়ি এলাকায় রেলের আন্ডারপাস মার্চ মাসের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে। তবে পঞ্চাননতলার আরওবি চালু হতে এখনও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। বহরমপুর শহরে ঢুকতে দুই রেলগেট পারাপারের দুর্ভোগ মিটতে চলায় স্বাভাবিকভাবেই শহরবাসী উচ্ছ্বসিত।
বহরমপুর শহরের উপর দিয়ে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার রেললাইন গিয়েছে। পূবদিক থেকে শহরে ঢোকার তিনটি করিডর আছে। তিনটি প্রবেশপথেই রেললাইন টপকে শহরে ঢুকতে হয়। এই তিন রেলগেট হল ভাকুড়ি এলাকায় ১২৯/সি, বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে ঢোকার আগে চুঁয়াপুরে ১৩১/টি ও বহরমপুর কোর্ট স্টেশনের পর পঞ্চাননতলায় ১৩২/টি-৩ রেলগেট। এই শাখায় ১৪-১৫ জোড়া ট্রেন সহ একাধিক মালগাড়ি যাতায়াত করে। ফলে দিনে ও রাতে অন্ততপক্ষে ৩৬-৩৭ বার রেলগেট পড়ে। রেলগেটে আটকে চরম দুর্ভোগ পড়তে হয় স্থানীয়দের। তৈরি হয় যানজটও। এই সমস্যায় দীর্ঘ টালবাহানার পর চুঁয়াপুরে আরওবি বছর কয়েক আগেই চালু হয়েছে। কিছুদিন আগে ওই রেলগেটে আন্ডারপাসও চালু হওয়ায় দুর্ভোগ মিটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাজীব শীল বলেন, অধীর চৌধুরী রেলের রাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন চুঁয়াপুর ও পঞ্চাননতলায় আরওবি অনুমোদন হয়। চুঁয়াপুরে আরওবি নির্মাণে বহু জটিলতা আসায় আমাদের কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। আপাতত সমস্যা মিটেছে।
ভাকুড়ি দিয়ে প্রচুর গাড়ি শহরে ঢোকে। এখানেও বিকল্প রাস্তার দাবিতে এলাকার মানুষ সরব হয়ে আসছেন। অবশেষে ভাকুড়ি এলাকায় রেলগেটে আন্ডারপাসের কাজ শুরু হয়েছে। চালতিয়ার বাসিন্দা যুগল হালদার বলেন, এখানে আন্ডারপাস খুব প্রয়োজন। কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। যাতায়াতে সব চেয়ে বেশি যানজট তৈরি হয় পঞ্চাননতলায়। কারণ রেললাইনের উপর দিয়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক গিয়েছে। একবার রেলগেট পড়লে লাইনের দু’পাশে প্রায় ৫০০ মিটার পর্যন্ত গাড়ির লাইন পড়ে যায়। চুঁয়াপুরের সঙ্গে এখানেও আরওবি জমি জটে আটকে ছিল। অবশেষে জমি জট কাটায় পঞ্চাননতলায় আরওবির কাজে গতি এসেছে।
পঞ্চাননতলা এলাকার বাসিন্দা মৃন্ময় সরকার বলেন, বহরমপুর শহরে ঢুকতে প্রতিদিন রেলগেটে আটকে পড়তে হত। আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন থাকলে যানজট কাটতে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লেগে যায়। আরওবির কাজ শেষ হলে গোটা মুর্শিদাবাদের মানুষের দুর্ভোগ অন্তত মিটবে। বহরমপুরের পঞ্চাননতলায় আরওবির কাজ চলছে। -নিজস্ব চিত্র