Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিলপাড়া ব্যারাজের দু’পাশের কাজ শেষ পুজোর আগেই গাড়ি চলাচলের সম্ভাবনা

জরুরিভিত্তিতে তিলপাড়া ব্যারাজের দু’প্রান্তের কাজ শেষ হয়েছে। মাঝের অংশের কাজও শুরু হয়েছে।

তিলপাড়া ব্যারাজের দু’পাশের কাজ শেষ পুজোর আগেই গাড়ি চলাচলের সম্ভাবনা
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: জরুরিভিত্তিতে তিলপাড়া ব্যারাজের দু’প্রান্তের কাজ শেষ হয়েছে। মাঝের অংশের কাজও শুরু হয়েছে। আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্কারের কাজ শেষ হলেই নতুন করে তিলপাড়া ব্যারাজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। সেচদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সরেজমিনে গিয়ে এই পরীক্ষা করবেন। তারপরই ব্যারাজের উপর থাকা সেতুর ভারবহন ক্ষমতা স্পষ্ট হবে। তাঁরা সমস্তকিছু খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পেশ করবেন। সেই রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে সেতুর উপর দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক যান চলাচল সম্ভব কিনা। তাঁরা ছাড়পত্র দিলেই পুজোর আগে যান চলাচল চালু হতে পারে। 

Advertisement

জেলা সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, দ্রুতগতিতে সংস্কারের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ব্যারাজের দু’প্রান্তের কাজ শেষ হয়েছে। মাঝের অংশে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পুনরায় ব্যারাজের পরীক্ষা করা হবে। তারপর যান চলাচল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 
তিলপাড়া ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। ময়ূরাক্ষী নদীতে জলস্ফীতি হয়। ব্যারাজের একাধিক লকগেট খুলে জল ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তার জেরে বর্ষার মরশুমের শুরুতেই ব্যারাজের ডাউনস্ট্রিম নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নীচ থেকে বালি ও মাটি সরে যাওয়ার ফলে একে একে ডিভাইড ওয়াল সহ র‍্যাফট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে ড্যাম বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদের পরামর্শ মেনে জরুরিভিত্তিতে ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ভরা বর্ষার মরশুমে ব্যারাজ টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। জরুরিভিত্তিতে কাজ শুরু করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের তরফে যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ব্যারাজের উপর থাকা সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে যাত্রীদের কথা ভেবে এই মূহূর্তে বাইক ও ই-রিকশ চলাচলের অনুমতি রয়েছে।
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় ইতিমধ্যে ব্যারাজের দু’প্রান্তের জরুরিভিত্তিক সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। এখন মাঝের অংশের সংস্কার করা হচ্ছে। অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ চলানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে ব্যারাজের চাপ কমাতে মাঝের দু’টি লকগেট খুলে জল ছাড়াও চলছে। দু’প্রান্তের একাধিক লকগেটের মাধ্যমেও দিনের বিভিন্ন সময় জল ছাড়া হচ্ছে। আধিকারিকরা জানান, জরুরিভিত্তিক কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ব্যারাজের উপর থাকা সেতুর ভারবহন ক্ষমতা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে। তবে পুজোর আগেই ওই সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে কিনা সেদিকে তাকিয়ে যাত্রী ও যানবাহন চালকরা। কারণ, ঘুরপথে যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য গাড়ি চালাতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সেচদপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার পর ব্যারাজের পরীক্ষার পরই এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ