Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাট জংশনে অমৃত ভারত প্রকল্পে কাজে গতি নেই, ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের

রামপুরহাট জংশনে অমৃত ভারত প্রকল্পে কাজে গতি নেই, ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের
  • ২১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া মহকুমা রামপুরহাট। এই মহকুমা শহরের রামপুরহাট রেল জংশন নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায়। কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্পের কাজ শুরুও হয়েছিল। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট জংশনের পুনর্নির্মাণ কাজের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দুই বছর হতে চললেও কাজের কোনও গতি দেখছেন না স্থানীয়রা। ধীর গতিতে কাজ চলার কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।

Advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন রামপুরহাট স্টেশনের উন্নয়নে জোর দেন। কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে তারাপীঠ মন্দিরের আদলে ১২১ ফুট উঁচু একটি তোরণ স্টেশনের মূল প্রবেশ দ্বারে নির্মাণ করা হয়। মন্দিরের টেরাকোটা কাজের হুবহু ছাঁচ বসিয়ে একেবারে তারাপীঠ মন্দিরের রূপ দেওয়া হয়। পর্যটকদের অনেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলেন। 
২০২৩ সালের শুরুতে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পে রাজ্যের ষোলোটি স্টেশনের জন্য ৪৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। এর মধ্যে রামপুরহাট স্টেশন রয়েছে। সেই মতো হকার সহ রেলের একাধিক জায়গায় বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করা হয়। 
রামপুরহাট জংশনের তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আর বি মাহাত জানিয়েছিলেন, এখানে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পে দু’টি পর্যায়ে কাজ হবে। প্রথম পর্যায়ে তারাপীঠ মন্দিরের আদলে দ্বিতীয় প্রবেশদ্বার হবে। সেখানেও পৃথক আরও একটি টিকিট কাউন্টার করা হবে। এছাড়া অটো ও বাসস্ট্যান্ড আরপিএফের ব্যারাকের পিছনে ছফুঁকো এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে স্টেশনে আসার রাস্তাটি ১০ মিটার চওড়া করা হবে, যাতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে দু’টি প্রবেশদ্বার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া এলাকার বিউটিফিকেশন করে আদর্শ স্টেশনের রূপ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে নলহাটি যাওয়ার দিকে আরও একটি ফুট ওভারব্রিজ ও জংশনের বাইরে একটি পে টয়লেট, পানীয় জলের ব্যবস্থা সহ বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজ হবে। কিন্তু দু’বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রবেশদ্বার সহ কোনও কাজই হয়নি। 
শহরের বাসিন্দা তথা কংগ্রেস নেতা সাহাজাদা হোসেন কিনু বলেন,  প্রধানমন্ত্রী যেদিন শিলান্যাস করেন, সেদিন জানা গিয়েছিল ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হবে। কিন্তু এই দু’বছরে হকার ও রেলের জায়গায় বসবাসকারীদের পেটে লাথি মারা ছাড়া কোনও কাজই হয়নি। স্টেশনের বাইরে পানীয় জল, টয়লেটের ব্যবস্থা হয়নি। যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফটক দুয়ারে আরওবি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা হয়নি। রেল গেটে নিত্য দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রেলপাড়ে যাত্রী সুবিধার্থে ফুট ওভারব্রিজের কাজ শুরু হলেও সেটাও থমকে রয়েছে। কোনও কাজেরই গতি নেই। শুধু অমৃত ভারতের নামে ঢাকঢোল পেটানো ছাড়া কিছুই হয়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ