Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের বাঁকিপুটে সমুদ্রবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু

কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের বাঁকিপুট এলাকায় দুর্বল সমুদ্রবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হল

কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের বাঁকিপুটে সমুদ্রবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের বাঁকিপুট এলাকায় দুর্বল সমুদ্রবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হল। সেচদপ্তরের উদ্যোগে ভাঙনপ্রবণ অংশে ব্ল্যাকস্টোন ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। জেসিবি দিয়ে শ’য়ে শ’য়ে ব্ল্যাকস্টোন ফেলা চলছে জোরকদমে। গত ২০২১ সালের মে মাসে ‘যশ’ ঘূর্ণিঝড়ের জেরে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের দাপটে দুর্বল সমুদ্রবাঁধ ভেঙে বাঁকিপুট সহ একাধিক অংশ দিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে জল ঢুকে গিয়েছিল। তারপর ভাঙা অংশগুলিতে মাটি ও বোল্ডার ফেলে অবস্থা সামাল দেওয়া হলেও আজও সেই অংশ ঠিকমতো মেরামত হয়নি। বরং বাঁকিপুটের যেখানে গঙ্গাপুজো হয়, সেই জায়গা সহ উত্তরদিকে কানাইচট্টার দিকে বাঁধের ভাঙন বাড়ছে। সমুদ্র ক্রমশ ভিতরে ঢুকছে। ভাঙনের জেরে বহু ঝাউগাছ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অংশে ব্ল্যাকস্টোন ফেলার কাজ শুরু হল। সেচদপ্তরের কর্তাদের যুক্তি, ব্ল্যাকস্টোন জলোচ্ছ্বাসের দাপট আটকাতে সক্ষম। তাই আপাতত ব্ল্যাকস্টোন ফেলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। 

Advertisement

তবে এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বাঁকিপুট থেকে দক্ষিণদিকে গোপালপুর পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার সমুদ্রবাঁধ আগেই শক্তপোক্তভাবে বাঁধানো হয়েছে। বাঁকিপুট থেকে উত্তরদিকে ভাঙন কবলিত অংশও সেভাবে কংক্রিট দিয়ে বাঁধানোর ব্যবস্থা করা হোক। গোপালপুর মৎস্যখটির সংলগ্ন বেহাল অংশও একইভাবে কংক্রিট দিয়ে বাঁধাতে হবে বলে দাবি তাঁদের। এমনিতেই সামনে ষাঁড়াষাঁড়ির কোটাল রয়েছে। তার উপর বড় ঘূর্ণিঝড়ের জেরে জলোচ্ছ্বাস হলে বাঁধের অস্তিত্ব থাকবে না বলে বাসিন্দাদের দাবি। যদিও সেচদপ্তর সূত্রে খবর, এখনই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কংক্রিট দিয়ে বাঁধানোর কোনও পরিকল্পনা নেই।  
উল্লেখ্য, বাঁকিপুট থেকে গোপালপুর পর্যন্ত অংশ সমুদ্রবাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল ছিল। বছর বারো আগে সেচদপ্তর ওই অংশ কংক্রিট দিয়ে বাঁধায়। যে অংশে কংক্রিট দিয়ে বাঁধানো হয়েছে, সেখানে কোনও সমস্যা নেই। তবে দক্ষিণদিকে গোপালপুর মৎস্যখটি সংলগ্ন আধ কিলোমিটার অংশ এবং উত্তরে কানাইচট্টার কাছে বাঁধের বিপজ্জনক অবস্থা। এই দুটি জায়গা দিয়েই যশ ঘূর্ণিঝড়ের সময় জল উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল। তাই এই দুটি অংশ কংক্রিট দিয়ে বাঁধানোর দাবি রয়েছে। যদিও এখনও দাবিপূরণ হয়নি। তবে কংক্রিট দিয়ে বাঁধানো হলেও বাঁধের উল্টোদিকে রাস্তার দিকে অংশে বেশকিছু জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও মাটি ধসে গিয়েছে। সেখানে মাটির বস্তা ফেলে অবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আবার ভোগপুরের কাছে কয়েকবছর আগে জলোচ্ছ্বাসে কংক্রিটের বাঁধের বেশ কয়েকটি পিলার ভেঙে গিয়েছিল। আজও তা মেরামত করা হয়নি। সেভাবেই পিলারগুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মানিক গারু বলেন, বড় জলোচ্ছ্বাস হলে ভাঙা অংশ দিয়ে জল ঢুকে বিপদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। সব মিলিয়ে বাঁধ কংক্রিট দিয়ে বাঁধানো হলেও দুর্বল অংশগুলি নিয়ে আমরা যথেষ্টই চিন্তিত। সেচদপ্তরের কাঁথি বিভাগের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক মণ্ডল বলেন, ব্ল্যাকস্টোন ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। কংক্রিটের বাঁধের বিষয়টি প্রস্তাব আকারে আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। যা এখনও আলোচনা ও পরিকল্পনার  স্তরে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ হবে। বাঁধের যেখানে সমস্যা রয়েছে, আমরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।-নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ