নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে ককরোচ পার্টির আন্দোলন চরমে পৌঁছেছে। সোমবার ছাত্র-যুবদের সংসদ অভিযানে পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জ দেখে দেশ বিস্মিত। সেই আন্দোলনের আঁচ এসে পড়েছে শহর কলকাতাতেও। গত ২০ জুলাই দিল্লির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিরাট মিছিল হয়েছে যাদবপুরে। আর তারপরই বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি— ‘যাদবপুর পার্টি সাবধান থাকুন। উসকানি দিতে শুরু করেছেন। আমি লক্ষ রাখছি। বেশি বাড়তে দেব না। আমাদের কিন্তু দুর্বল সরকার নয়। আমাদের শক্তিশালী সরকার।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই ফুঁসছেন যাদবপুরের আন্দোলনকারীরা।
আগামী শুক্রবার দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সমস্ত বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। এসএফআই আবার ওই দিনই দেশজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। একইসঙ্গে ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’ নামে নেওয়া হয়েছে রাত দখলের মতো কর্মসূচিও। আগামী শনি ও রবিবার দেশের সর্বত্র পুলিশ কর্মীদের হাতে মেলোডি টফি এবং ফুল তুলে দেবে এসএফআই। আজ, বৃহস্পতিবার লোকভবনের সামনে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে অন্যান্য বাম সংগঠনও। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা। এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক তথা যাদবপুরের প্রাক্তনী সৃজন ভট্টাচার্যের সাফ কথা, ‘যাদবপুর পার্টি’ বলতে উনি কি বোঝাতে চাইলেন জানি না। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ফসল। উনি তো অবশ্য আজকাল শ্যামাপ্রসাদ-সাভারকারের পক্ষ নিয়েছেন, ওঁর যাদবপুরকে হজম হবে না, সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের অসুবিধা নেই তাতে। ওঁর মুখের দিকে তাকিয়ে যাদবপুরের ছাত্ররা লেখাপড়া করে না। যাদবপুর প্রশ্ন করবেই, সেই প্রশ্নকে কেউ উসকানি বলে দাগিয়ে দিতে চাইলেও, অন্যায় দেখলে যাদবপুর প্রশ্ন করবেই।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই নেতা শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, ‘বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা এই প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। অবশ্যই, যাদবপুরে যদি দেশবিরোধী কার্যকলাপ হয়, আমরা তার বিরোধিতা করব। আমাদের সেদিনের মিছিল দেখে বিজেপি আরও ভয় পেয়েছে। এসবে আন্দোলন থেমে যাবে না।’ আর এক বাম ছাত্র সংগঠন আইসার রাজ্য সম্পাদক ঋতম মাজির বক্তব্য, ‘গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য যা যা করতে হয়, সেগুলো বিজেপি অনেকদিন শুরু করেছে। মানুষ সেটা বুঝতে পারছে। বাম-অতি বাম এসব বলে গোটা বিষয়টাকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। আমরা তো আরও একটা মিছিল করছি।’
ঘটনাচক্রে এদিন বিকেলেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের পাশে ‘কাউন্টার এরা’ নামের একটি বইয়ের দোকানে ছ’-সাতজন এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। দোকানির দাবি, ‘ওরা এসে বলে এখানে দেশদ্রোহী বই রাখা হয়। সেসব না সরালে দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া ও ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গিয়েছে।’ এদিন সন্ধ্যায় আবার যাদবপুরে লেনিন মূর্তিতে গেরুয়া পতাকা ঝুলিয়ে দেওয়া নিয়ে ঝামেলায় জড়ান বিজেপি ও সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরা। পুলিশ এসে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের বাইরে এদিনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান করেছে এসএফআই। আবার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে ডিওয়াইএফআইয়ের সমাবেশে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ তাণ্ডব চালিয়েছে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের উপর। আদালত বলেছে ভিডিয়ো দেখার সময় নেই। তাহলে ছাত্র-যুবদের দায়িত্ব এই সব ভিডিয়ো মানুষের কাছে প্রচার করা।’ আগে এই সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল কলকাতা পুরসভার সামনে। মঙ্গলবার রাতে আচমকা সভাস্থল পরিবর্তন করে পুলিশ। তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব।