নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের লোধাশুলি ও শালবনীর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পেয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। এর ফলে এই গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার ঘটছে। শুক্রবার সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার লোধাশুলি শাখার উদ্যোগে কৃষি ও ঋণ মেলা আয়োজিত হয়েছিল। ব্যাঙ্ক চত্বরে ওই মেলায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর শতাধিক মহিলাকে ঋণ নেওয়ার পদ্ধতি ও খুঁটিনাটির বিষয়ে সচেতন করা হয়। ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ম্যানেজার অমিত সিং, সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজার সৌরভ প্রামাণিক, এগ্রিকালচার ফিল্ড অফিসার দেবদাস চন্দ সহ অন্য আধিকারিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অমিতবাবু বলেন, লোধাশুলি ও শালবনী পঞ্চায়েতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১০০শতাংশ মহিলাকে ঋণের আওতায় আনা হয়েছে। ৪০০টি স্বনির্ভর দল ব্যাঙ্কের এই শাখার সঙ্গে যুক্ত। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য নতুন ‘নারীশক্তি স্কিম’ চালু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এদিন তাঁদের সচেতন করা হল। জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশনের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সংগঠিত করে তাঁদের রোজগার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এদিনের শিবিরে স্ব-সহায়ক দল এনআরএলএম স্কিম, ডিজিটাল সেন্ট্রাল কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও অন্য নানা স্কিম নিয়ে আলোচনা হয়। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা কৃষি, গৃহপালিত পশু কেনা, পোল্ট্রি ফার্ম ও কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করে সাফল্য লাভ করছেন কিনা-তা নিয়ে পর্যালোচনাও হয়েছে।
সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের এই শাখার চেষ্টায় লোধাশুলি ও শালবনীতে মহিলাদের আয় ও সঞ্চয় বেড়েছে। তাঁদের অসংগঠিতভাবে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। ব্যাঙ্কের তরফে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কৃষি সহ নানা বিষয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। তাঁরা যাতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পান-সেদিকেও নজর দিচ্ছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। এদিনের শিবিরে উপস্থিত লোধাশুলির শাকবাঁধি গ্ৰামের বাসিন্দা কবিতা মাহাত বলেন, ঋণ নিয়ে পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে তুলেছি। এতে রোজগার বেড়েছে। ঋণ না পেলে কোনওভাবেই এই মুরগির খামার গড়ে তুলতে পারতাম না। বাঘমুড়ির বাসিন্দা ভারতী মাহাত বলেন, স্বনির্ভর দল তৈরি হওয়ায় আমরা ঋণ নিতে সাহস পাচ্ছি। এদিনের শিবিরে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। এতে আগামী দিনে লোন নিতে সুবিধা হবে। ব্যাঙ্কের লোধাশুলি শাখার ম্যানেজার সৌরভ প্রামাণিক বলেন, তাৎক্ষণিক ঋণ অনুমোদন, ব্যাঙ্কের শাখার সঙ্গে যোগাযোগের পদ্ধতি, সর্বনিম্ন সুদের হারের মতো নানা বিষয় শিবিরে তুলে ধরা হয়েছে।