Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আমের আঁটি সংগ্রহ করে লক্ষ্মীলাভ পূর্বস্থলীর বিভিন্ন গ্রামের মহিলাদের

কাটোয়ায় সকাল হলেই মহিলারা বস্তা নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘোরেন। লক্ষ্য, রাস্তা-ঘাটে পড়ে থাকা আমের আঁটি সংগ্রহ করা। সকলে আম খেয়ে আঁটি ফেলে দেয়। আর সেই আঁটি কুড়িয়েই সংসার চলে পূর্বস্থলীর বহু মহিলার।

আমের আঁটি সংগ্রহ করে লক্ষ্মীলাভ পূর্বস্থলীর বিভিন্ন গ্রামের মহিলাদের
  • ১১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ায় সকাল হলেই মহিলারা বস্তা নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘোরেন। লক্ষ্য, রাস্তা-ঘাটে পড়ে থাকা আমের আঁটি সংগ্রহ করা। সকলে আম খেয়ে আঁটি ফেলে দেয়। আর সেই আঁটি কুড়িয়েই সংসার চলে পূর্বস্থলীর বহু মহিলার। বিহার, ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি উত্তর ২৪পরগনা, হুগলি, নদীয়া জেলার নার্সারিগুলিতেও পূর্বস্থলীর আমের আঁটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একাধিক ট্রাকভর্তি হয়ে বিপুল পরিমাণ আঁটি পাড়ি দিচ্ছে ভিনরাজ্যেও। সেখানকার নার্সারিগুলিতে আঁটি থেকেই আমের চারা তৈরি হয়।

Advertisement

সকলেই সুস্বাদু আম খেয়ে আঁটি অবহেলায় বাইরে ফেলে দেয়। কিন্তু, ফেলে দেওয়া সেই আঁটিরও যে এত কদর রয়েছে, তা পূর্বস্থলীতে না এলে বিশ্বাস করা কঠিন। এখানে রয়েছে আমের আঁটি বিকিকিনির জন্য একটি আস্ত পাইকারি বাজার। আঁটি বিক্রি করেই অনেকে দিনে ৩০০-৪০০টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা তার থেকে দ্বিগুণ-চারগুণ পর্যন্ত আয় করেন। আমের আঁটি কুড়িয়েই আবার অনেক মহিলা আয় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলী স্টেশনের ৪নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশেই রয়েছে এই আমের আঁটির পাইকারি বাজার। বিভিন্ন এলাকা থেকে সদ্য গজানো অঙ্কুর সমেত আমের আঁটি নিয়ে এসে এখানে বিক্রি করা হয়। আমের আঁটি বিক্রি হয় টিন প্রতি ১০০-১৫০টাকা দরে। এলাকার বহু মানুষই আমের আঁটি সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। প্রতিদিন ভোরে ট্রেন ধরে বেরিয়ে পড়েন বহু মানুষ। রাস্তায় বা কারও ঘরের পাশে, আম বাগানে আঁটি পড়ে থাকতে দেখলেই তাঁরা ঝোলায় পোরেন। কালনার ধাত্রীগ্রাম, হুগলির খামারগাছি, ত্রিবেণী, ব্যান্ডেল, কাটোয়া, বর্ধমান প্রভৃতি এলাকার বিভিন্ন পাড়ায় ঘুরে ফেলে দেওয়া আমের আঁটি সংগ্রহ করেন মহিলারা। তারপর সেই আঁটি  দুপুরের মধ্যে পূর্বস্থলীর পাইকারি বাজারে চলে আসে। সেখান থেকে আঁটি ট্রাকে করে চলে যায় উত্তর ২৪পরগনা, হুগলি, নদীয়া থেকে বিহার, ঝাড়খণ্ড, অসমের নার্সারিতে।
পূর্বস্থলীর বধূ পূর্ণিমা রাজবংশী, সুলেখা মণ্ডল বলেন, আমরা বাসে, ট্রেনে চেপে বিভিন্ন এলাকায় আঁটি কুড়োতে যাই। সেগুলিই বাজারে বিক্রি করে আমাদের বাড়তি আয় হয়। সংসারে দু’পয়সা আসে। তবে, আমের মরশুম শেষ হয়ে বর্ষা এলেই আর এই আঁটি বিক্রি হয় না। বিহারের কাটিহার, ভাগলপুরে আঁটির চাহিদা বেশি। 
পাশাপাশি হুগলি, নদীয়া ও উত্তর ২৪পরগনা থেকেও নার্সারি মালিকরা সরাসরি আসেন আমের আঁটি সংগ্রহ করতে। আঁটির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছর দামও বাড়ছে। নার্সারিতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আঁটি থেকে আম গাছের চারা তৈরি করা হয়। আঁটি ব্যবসায়ী রাজেন্দ্র রাজবংশী বলেন, ফেলে দেওয়া আঁটি থেকে যে বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহ হতে পারে, তা এখানে না দেখলে জানা যাবে না। আমরা লরি ভর্তি করে আমের আঁটি ভিনরাজ্যে পাঠাই। এখান থেকে বিভিন্ন জাতের আমের চারা তৈরি করে বিক্রি করা হয়। আঁটি সংগ্রহ করে অনেকে দিনে ৩০০-৪০০টাকা পর্যন্ত আয় করেন। সব খরচ মিটিয়ে ব্যবসায়ীদের দিনে ৮০০-১০০০টাকা আয় হয়। ফেলে দেওয়া আমের আঁটি বিক্রি করেই যে লক্ষ্মীলাভ হতে পারে, পূর্বস্থলীতে তা আগে কেউ জানতেন না।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ