সংবাদদাতা, চাঁচল: নারী দিবসের ঠিক দু’দিন পরেই অকথ্য নির্যাতনের ছবি দেখা গেল চাঁচলে। গত মঙ্গলবার চাঁচল থানার হজরতপুরে বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় এক গৃহবধূকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগে তাঁর স্বামী ও শ্বশুর, শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছিল চাঁচল থানার পুলিস। এবার বাড়ির বধূকে পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। ভোররাতে বধূকে এলোপাথাড়ি মারধরের পাশাপাশি পেট্রল খাইয়ে এবং গায়ে ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। চাঁচল থানার মাস্তিপাড়া গ্রামের এই ঘটনায় সোমবার জামাই ও তার বাবা, মায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন নির্যাতিতার মা তারজুনা বিবি। অভিযোগ পেয়ে পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করতেই বাড়ি ছাড়া অভিযুক্তরা।
আক্রান্ত গৃহবধূ রিয়া পারভীন গুরুতর জখম অবস্থায় চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁচলের সাহুরগাছি গ্রামের রিয়াজুদ্দিনের মেয়ে রিয়ার সঙ্গে তিনবছর আগে বিয়ে হয় মাস্তিপাড়ার সাদ্দাম আলির। ওই দম্পতির ১৪ মাসের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে পণের জন্য চাপ দিত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য স্ত্রীকে বেশি চাপ দিতেন সাদ্দাম বলে অভিযোগ। এনিয়ে হামেশাই স্ত্রীকে মারধর করতেন তিনি। আগে গ্রামে কয়েকবার সালিশি সভা বসলেও মাতব্বরদের সিদ্ধান্ত মানেননি সাদ্দাম ও তাঁর পরিবার। অভিযোগ,রবিবার রাত থেকে ফের মারধর শুরু হয় রিয়ার উপর। সকালে সেই অত্যচার আরও বেড়ে যায়। তার শ্বশুর, শাশুড়ি সহ স্বামী মারধর শুরু করেন। গলা টিপে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করার পর রিয়ার গায়ে পেট্রল ঢেলে দেওয়া হয়। এমনকি মুখেও সেই তেল ঢেলে দেওয়া হয়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে রক্ষা পান রিয়া। নির্যাতিতার মা তারজুনা বিবি বলেন, টাকার জন্য মেয়ের উপর লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমার স্বামী দিনমজুর। কীভাবে টাকা জোগাড় করবে? এর আগে সালিশি সভা বসলেও ওরা মানতে চায়নি। মেয়েকে পুড়িয়ে মেরে ফেলত ওরা। ওদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। চাঁচল থানার এক আধিকারিক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে ওই গৃহবধূর, শ্বশুর, শাশুড়ি কিংবা স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলেও ওই পরিবারের সদস্যদের দাবি, মিথ্যা অভিযোগ তুলে ওদের ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।