Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে কালো ধান চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন মহিলা চাষিরা, চাহিদা বাড়ছে ভিন রাজ্যেও

নয়াগ্ৰামের মহিলা চাষিরা কালো ধান চাষে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। ব্লকের পাঁচটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ৩ হাজার মহিলা এখন কালো ধান চাষ করছেন।

ঝাড়গ্রামে কালো ধান চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন মহিলা চাষিরা, চাহিদা বাড়ছে ভিন রাজ্যেও
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: নয়াগ্ৰামের মহিলা চাষিরা কালো ধান চাষে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। ব্লকের পাঁচটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ৩ হাজার মহিলা এখন কালো ধান চাষ করছেন। জেলার অন্যান্য এলাকাতেও কালো ধান চাষে উৎসাহ বাড়ছে। মহিলা চাষিদের উৎপাদিত ধান দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রে পৌঁছচ্ছে। 

Advertisement

জেলা কৃষিদপ্তরের উদ্যোগে ২০১৭-১৮ সালে নয়াগ্ৰাম ব্লকে পরীক্ষামূলক ভাবে কালো ধান চাষ শুরু হয়। কিছু সংখ্যক মহিলা চাষি সাহস করে এগিয়ে আসেন। সেই সংখ্যা এখন তিন হাজারের উপর ছাড়িয়ে গিয়েছে। নয়াগ্ৰামের পাতিনা, চাঁদাবিলা, আড়রা, বড় খাঁকরি, চন্দ্ররেখা এলাকায় কালো ধান চাষ শুরু হয়েছিল। এইবছর মলম ও নয়াগ্ৰামে কালো ধান চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ বাড়তেই ২০২০ সালে, ‘আমন মহিলা চাষি প্রোডিউসার কোম্পানি লিমিটেড’ গঠন করা হয়। মহিলা চাষিরা অন্ধ্রপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে কালো ধান পাঠাতে শুরু করেন। চাহিদা বাড়তে থাকায় চাষের জমিও বাড়ানো হয়। এবার জেলার অন্য প্রান্তের চাষিরাও কালো ধান চাষে উৎসাহ দেখাচ্ছেন। পলিমাটি সমৃদ্ধ হওয়ার  কারণে নয়াগ্ৰাম ব্লকের বিভিন্ন এলাকাকে প্রথমে বেছে নেওয়া হয়। কালো চালে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দেহের সুস্থ কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। আয়রন, ফাইবার, ভিটামিনের মতো পুষ্টি রয়েছে এই চালে। এছাড়া শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। উচ্চ ফাইবার হজমে সাহায্য করে ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। আড়রা গ্ৰামের চষি পারুল মাহাত বলেন, কৃষিদপ্তরের তরফে কালো ধান চাষে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। ফলন হবে কি না, তা নিয়ে প্রথমে সন্দেহ ছিল। প্রথমে দেড় বিঘা জমিতে নিজেই চাষ করেছিলাম। ভালো ফলন হওয়ায় এলাকার অন্যান্য মহিলারাও এগিয়ে আসেন। মহিলাদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হয়। 
কালো ধান অন্ধ্রপ্রদেশে ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে এখন রপ্তানি করা হচ্ছে। ভালো লাভ হওয়ায় সংসারের হালও ফিরেছে। অপর চাষি ইরাবতী রানা বলেন, আগে বীজতলা, ধানের চারা রোপণ, ধান কাটা থেকে ঝাড়াই, মাড়াই সবকিছু স্বামীর পাশে থেকে করতাম। এখন নিজে হাতে ধান চাষ করছি । স্বামী সহযোগিতা করছেন। নতুন ধরনের ধান চাষে লাভও হচ্ছে। এই এলাকার বহু জমিতে মহিলারা এখন কালো ধান চাষ করছেন। নয়গ্ৰামের ব্লকের কৃষিদপ্তরের আধিকারিক অর্ণব পারি বলেন, ২০১৭-১৮ সালে পাঁচটি গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায় মহিলা চাষিদের নিয়ে পরীক্ষামূলক কালো ধান চাষ শুরু। সাফল্য মিলতেই মহিলা চাষিদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়। অন্ধ্রপ্রদেশে, মহারাষ্ট্রে কালো ধানের চাহিদা বাড়ছে। এইবছর আরও দু’টি এলাকায় কালো ধান চাষ হবে। পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনা প্রকল্পে কৃষিদপ্তর থেকে জৈব সার, ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। জেলা কৃষিদপ্তর এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে অন্যান্য ব্লকেও কালো ধান চাষের উদ্যোগ নিচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ