Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাড়াজোল রাজবাড়িতে অঞ্জলি দেন না মহিলারা

নাড়াজোলের রাজবাড়ির পুজোয় মহিলারা ‘ব্রাত্য’। এই দুর্গাপুজোর কোনও পুষ্পাঞ্জলিতে মহিলাদের অংশগ্রহণের নিয়ম নেই

নাড়াজোল রাজবাড়িতে অঞ্জলি দেন না মহিলারা
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: নাড়াজোলের রাজবাড়ির পুজোয় মহিলারা ‘ব্রাত্য’। এই দুর্গাপুজোর কোনও পুষ্পাঞ্জলিতে মহিলাদের অংশগ্রহণের নিয়ম নেই। এভাবেই ৬১৩ বছর ধরে দাসপুর-১ ব্লকের ওই খান রাজাদের শারদ বন্দনা চলে আসছে।

Advertisement

এই পুজোর সূচনার কাহিনিও বড় বিচিত্র। নাড়াজোলের বাসিন্দা তথা  রাজবাড়ির ইতিহাস লেখক দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, আমরা বিভিন্ন প্রাচীন নথি ঘেঁটে জেনেছি, সালটা ছিল ৮২০ বঙ্গাব্দ। ওই সময় গোটা নাড়াজোল ছিল জঙ্গলে ভরা। একদিন বর্ধমানের সামন্ত রাজাদের বংশধর উদয় নারায়ণ ঘোষ নাড়াজোলের জঙ্গলে শিকারে যান। শিকার করার সময় তিনি দেখেন সন্ধ্যার মুখে একটি বিশেষ ধরনের শিকারি পাখি একটি বাজ পাখিকে আক্রমণ করছে। নাড়াজোলের ডোবার ঈশাণ কোণে ওই ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর উদয় নারায়ণ ঘোষ স্তম্ভিত হয়ে যান। সেদিন আর শিকার না করে ফিরে যান। ওই রাতেই উদয় নারায়ণকে মা দুর্গা স্বপ্নাদেশ দিয়ে বলেন, যেখানে ওই  বাজপাখির উপর আক্রমণ চলছিল, সেই ডোবার পাড়েই দেবী মূর্তি রয়েছে। সেখান থেকে ওই মূর্তি উদ্ধার করতে হবে। স্বপ্নাদেশ পেয়ে পরের দিনই উদয়নারায়ণ ওই ডোবার পাড়ে গিয়ে দুর্গার মূর্তি উদ্ধার করেন। সেবছর থেকেই তিনি নাড়াজোলে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। পরে সেই ডোবার সংস্কার করে সেটিকে বড় দিঘিতে রূপান্তরিত করা হয়। দুর্গাদেবীর নাম অনুসারে নাম হয় জয়দুর্গা দিঘি। সেই থেকেই পর্যায়ক্রমে ওই খান রাজবাড়িতে মায়ের পুজো হয়ে আসছে। রাজ পরিবারের বংশধর সন্দীপ খান বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের পদবি প্রথমে ঘোষ থাকলেও পরে রায় হয় এবং আলিবর্দি খাঁয়ের আমলে বাংলার নবাব নাজিম আমাদের পদবি পরিবর্তিন করে খান (খাঁ নয়, খান) করে দেন।
খান রাজবাড়ির  দুর্গাপুজো বরাবরই প্রতিপদের এক দিন বাদে শুরু হয়। 
রাজ পরিবারের অন্য এক সদস্য প্রভুদয়াল খান বলেন, আমাদের পুজোয় বলি হয় না। সন্ধি পুজোর সময় দেড় কেজি  খই দিয়ে একটি বড় আকারের মোয়া দেওয়া হয়। ওই মোয়াটি সন্ধিপুজোর সময় আপনা থেকেই ফেটে যায়। এটাকেই রাজ পবিরারের তরফে বলি বলা হয়।  ডেবরা থানার ভাঙাবাঁধের অমর মিশ্র বর্তমানে রাজ পরিবারের পুজো পরিচালনা করেন।  
রাজ পরিবারের সদস্য মাধুরী খান বলেন, রীতি মেনে মহিলাদের পুষ্পাঞ্জলিতে অংশ নিতে না দেওয়া হলেও আমাদের আক্ষেপ নেই। কারণ, রাজবাড়ির দুর্গা খুবই জাগ্রত। বহুবার দুষ্কৃতীরা স্থায়ী মন্দির থেকে অষ্টধাতুর দুর্গামূর্তি চুরি করে নিয়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু প্রতিক্ষেত্রেই স্বমহিমায় মায়ের মূর্তি উদ্ধার করা গিয়েছে।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ