নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দু’ বেলা হেঁশেল ঠেলে, ঘরকন্না সামলে যাঁদের দিন কাটত, তাঁরাই আজ হিল্লিদিল্লি করে বেড়াচ্ছেন। ডাক আসছে কখনও দিল্লি, কখনও ঝাড়খণ্ড থেকে। এছাড়া রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে তো বটেই। ওঁরা মহিলা ঢাকির দল।
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দু’ বেলা হেঁশেল ঠেলে, ঘরকন্না সামলে যাঁদের দিন কাটত, তাঁরাই আজ হিল্লিদিল্লি করে বেড়াচ্ছেন। ডাক আসছে কখনও দিল্লি, কখনও ঝাড়খণ্ড থেকে। এছাড়া রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে তো বটেই। ওঁরা মহিলা ঢাকির দল।
সিউড়ি-১ ব্লকের মল্লিকপুর পঞ্চায়েতের একটি গ্রাম চাঙ্গুরিয়া। সেই গ্রামেই বাস ভাগ্য দাস, রূপা দাস, বন্দনা দাস, পুতুল দাসদের। একসময়ে সংসারের হাল ধরতে শুরু করেছিলেন চাষবাসও। তবে, সমাজে নিজেদের পরিচয় গড়ে তোলার তাগিদে নতুন কিছু করার ভাবনা আসে মনে। সেই ভাবনাই তাঁদের করে তোলে ঢাকি। যাঁরা জীবনে ঢাকের কাঠি ছুঁয়েও দেখেননি, সেরকম আট মহিলা বছর দশেক আগে স্থানীয় ঢাকি ভবেশ দাসের শরণাপন্ন হন। আর্জি জানান, তাঁদের ঢাক বাজানো শেখানোর। ভবেশবাবু বিনামূল্যেতাঁদের তালিম দেওয়া শুরু করেন। প্রায় তিন বছর ধরেতালিম নেওয়ার পরঅবশেষে গৃহবধূরা ঢাকির তকমা পান। সেই থেকে শুরু হয় পথ চলা।
একটা সময় শুধু সিউড়িতেই বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে ঢাক বাজানোর ডাক পেতেন তাঁরা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁদের সুনাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। দূরদূরান্ত থেকে ডাক আসতে শুরু হয়। শুধু পুজো মণ্ডপ নয়, নানা অনুষ্ঠানের মঞ্চ মাতাতেও মহিলা ঢাকির দল অগ্রাধিকার পেতে শুরু করে। আসন্ন দুর্গাপুজোতেও বহরমপুর সহ একাধিক জায়গা থেকে তাঁদের ডাক এসেছে।রূপা দাস বলেন, ইচ্ছেশক্তির জোরেই আজ আমরা প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাক আসে। খুব ভালো লাগে। তবে, আমরা নিজেদের আরও পারদর্শী করে তুলতে চাই। তাই এখনও শিক্ষকের কাছে তালিম নিচ্ছি। ভাগ্য দাস বলেন, শেখার কোনও শেষ নেই। তাই প্রতিদিন ঘরকন্নার কাজ সেরে সময় পেলেই ঢাক নিয়ে বসে পড়ি। দশ বছর ধরে এভাবেই চলছে। ঢাকি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরে আমরা খুবই খুশি।
ভবেশবাবু বলেন, যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে ভাগ্য, রূপা ও অন্যান্যরা পুজো মণ্ডপ থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠানের মঞ্চ মাতিয়ে তুলতে পটু। কখনও ঢাকের উপর দাঁড়িয়ে দু’ কাঁধে দু’টি ঢাক তুলে কাঠির টোকায় সকলের নজর কাড়ছেন। আবার কখনও মাথায় ঢাক তুলে নেন। তাঁদের এই পারদর্শিতার কথা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এবছর দুর্গাপুজোর পঞ্চমী থেকে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে রূপা, বন্দনাদের দেখা যাবে।