সংবাদদাতা, মানবাজার: পুরুলিয়ার মানবাজার-১ ও পুঞ্চা ব্লকে মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে উদ্যোগী হয়েছে ব্যারাকপুরের সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট(সিফ্রি)। সংস্থার উদ্যোগে মানবাজার-১ ও পুঞ্চা ব্লকের ৫১৮জন আদিবাসী মহিলা পুকুরে মাছ চাষ করছেন। তার মধ্যে ৩০জন মহিলা মানবাজার-১ ব্লকের গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চৌবাচ্চায় রঙিন মাছ চাষ করছেন। এই আদিবাসী মহিলাদের নানাভাবে সহায়তা করছেন ওই বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমিতাভ মিশ্র।
অমিতাভবাবু বলেন, এলাকার মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার বেশকিছু মহিলা কিছুদিন আগেই সিফ্রির ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক মাছ চাষের প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। এই প্রকল্পের ফলে মহিলারা যেমন স্বাবলম্বী হবেন, তেমনি ওই সমস্ত পুকুর লাগোয়া স্কুলে মিড-ডে মিলেও কিছু মাছ সরবরাহ করবেন। ফলে পড়ুয়ারাও পুষ্টিকর খাবার পাবে।
মানবাজার-১ ও পুঞ্চা ব্লকের ৪৮টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সিফ্রির তরফে ওই মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি চাষের জন্য চারাপোনা, মাছের খাবার, এমনকী দেখভালের জন্য নৌকাও দেওয়া হয়েছে। মানবাজার ও পুঞ্চা মিলিয়ে ১৬টি পুকুরে ৫১৮জন মহিলা মাছ চাষ করছেন। সেজন্য ওই সংস্থা থেকে প্রতিটি পুকুরে ১৬ কুইন্টাল চারাপোনা ছাড়া হয়েছে। মাছের খাদ্যের জন্য ১৬টন খাবারও ওই সংস্থা মহিলাদের দিয়েছে। ৩০জন মহিলা গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে রঙিন মাছ চাষ করছেন। সেজন্যও চৌবাচ্চা, রঙিন মাছ ও তার খাবার সহ আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। সংস্থার তরফে মাছ চাষের বিষয়ে মাঝেমধ্যে খোঁজখবরও নেওয়া হচ্ছে। আদিবাসী মহিলাদের স্বনির্ভর করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।
অনিতা মাণ্ডি, ময়না মাঝিরা জানালেন, কীভাবে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মাছ চাষ করতে হয়, সেবিষয়ে তাঁরা ব্যারাকপুরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এলাকায় ফিরে অন্য মহিলাদেরও বুঝিয়েছেন। মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন-এবিষয়ে তাঁরা আশাবাদী।