সংবাদদাতা, কান্দি: ঋণের টাকা দিতে না পারায় এক মহিলা ও তাঁর সাত বছরের শিশুকন্যাকে অপহরণের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের দুই যুব নেতার বিরুদ্ধে। ভরতপুর থানা এলাকার সৈয়দকুলুট গ্রামের ওই ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ পেয়ে ভরতপুর থানার পুলিস মঙ্গলবার ভোরে অপহৃতা মা ও তাঁর নাবালিকা মেয়েকে ভরতপুরের কালীবাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পারভিন ইয়াসমিন ওরফে মৌমিতা খাতুন নামে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতকে এদিন কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের দুই যুব নেতা পলাতক রয়েছে। তাদের খোঁজ চলছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অপহৃতার স্বামী কলকাতায় একটি কোম্পানিতে কাজ করেন। গত রবিবার বিকেলে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে গ্রামে ঘুরছিলেন। তারপরই তাঁরা নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করলেও সন্ধান পাননি। সোমবার গভীর রাতে ভরতপুর থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তৃণমূলের দুই যুব নেতা সুদে টাকা ধার দেয়। অপহৃতা মহিলার স্বামী তাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা তিনি ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছিলেন না। তার জেরেই তাঁদের অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিস অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনার তদন্তে নামে। অপহৃতার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে মঙ্গলবার ভোরে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে। যে মহিলার বাড়িতে মা ও মেয়েকে রাখা হয়েছিল পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে মূল দুই অভিযুক্তের খোঁজ পায়নি।
পুলিস জানিয়েছে, অপহৃতার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে ওই বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে অপহৃত মহিলা ও তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করা গিয়েছে। তাঁদের একটি ঘরে দরজা বন্ধ করে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে তাঁদের অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
অপহৃতা মহিলার শাশুড়ি বলেন, তৃণমূলের দুই যুব নেতার কাছ থেকে আমার ছেলে ব্যবসার জন্য টাকা ধার নিয়েছিল। সেই টাকা ছেলে সুদ সহ ধীরে ধীরে মিটিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু, কয়েকদিন ধরেই ওরা সব টাকা এক সঙ্গে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। সেটা না পারায় আমার বউমা ও নাতনিকে ওরা অপহরণ করে। পুলিস বউমা ও নাতনিকে উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অভিযুক্ত দুই যুব তৃণমূল নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে অভিযুক্ত এক নেতার বাবা বলেন, প্রায় দেড় কোটি টাকা ওদের কাছ থেকে আমার ছেলে পায়। সেই টাকা ওরা মেটাতে চাইছে না। তাই ওরা চক্রান্ত করে আমার ছেলেকে ফাঁসাচ্ছে। তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ঘটনাটি খুবই লজ্জাজনক। পুলিস অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে এটাই আশা করব। প্রতীকী ছবি