নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূম জেলার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো কেমন? পড়াশোনা সহ শিশু ও প্রসূতিদের পুষ্টির ক্ষেত্রে কি কোনও খামতি রয়েছে? এমনই একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখতে বুধবার নারী ও শিশু বিকাশ দপ্তরের ডিরেক্টর রচনা ভগত সহ আট সদস্যের প্রতিনিধি দল আচমকা পরিদর্শন সারলেন। একদিনের পরিদর্শন পর্বে তাঁরা জেলার সাঁইথিয়া, লাভপুর, নানুর, রাজনগর সহ একাধিক ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি ঘুরে দেখেন। এদিন আধিকারিকদের বেশকিছু ক্ষেত্রে খামতি নজরে এসেছে। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কী করণীয়, তা নিয়েও উপায় বাতলে দিয়েছেন। তবে, সামগ্রিকভাবে অপুষ্টি রোধে অঙ্গনওয়াড়িগুলির ভূমিকায় তাঁরা খুশি। এবিষয়ে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এদিনের পরিদর্শন পর্ব শেষে তাঁরা বেশকিছু ক্ষেত্রে পথ নির্দেশনা করেছেন। সেগুলি মাথায় রেখেই আমরা আগামীতে পথ চলব। ইতিমধ্যে যেসব ক্ষেত্রে খামতি নজরে এসেছে, তার সমাধানে দ্রুত সিডিপিওদের নিয়ে বৈঠক করা হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, একই সময়ে একেকজন আধিকারিক একেকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দপ্তরের ডিরেক্টর সাঁইথিয়া ব্লক পরিদর্শন করেন। প্রত্যেকেই কমবেশি পাঁচ-ছ’টি অঙ্গনওয়াড়ি পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শন পর্বে তাঁরা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেইসঙ্গে স্থানীয়দের সঙ্গেও একপ্রস্থ আলোচনা সেরেছেন। সকলের সঙ্গে কথা বলে কোথায় কী খামতি রয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করেন।
এদিনের পরিদর্শন পর্বে একাধিক ক্ষেত্রে খামতি প্রকাশ্যে এসেছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, পর্যাপ্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর অভাব। বেশকিছু ক্ষেত্রে একজন কর্মীকে একাধিক অঙ্গনওয়াড়ির দায়িত্ব সামলাতে দেখা গিয়েছে। এছাড়াও, অনেক ক্ষেত্রে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শৌচালয় সহ জলের সমস্যাও প্রকাশ্যে এসেছে। পাশাপাশি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিকাঠামোগত সমস্যাও নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বহু পুরনো অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র কিছুটা হলেও বেহাল হয়ে পড়েছে। সেগুলির পরিকাঠামো উন্নত করতে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। সেইসঙ্গে জেলাজুড়ে প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ির মানোন্নয়নে আরও জোর দেওয়া হবে।