সংবাদদাতা, কালিয়াচক: সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার মহিলারা বিড়ি বাঁধতে পারদর্শী। মালদহ-মুর্শিদাবাদের কুটির শিল্প বলতে বিড়ি বাঁধাকেই বোঝানো হয়। কারণ, গ্রামের দু-একটি বাদে এমন একটিও বাড়ি নেই, যেখানে জটলা করে বসে মহিলারা বিড়ি বাঁধেন না। কিন্তু, এই সব এলাকার মহিলাদের একাংশ সেই কাজ ছেড়ে নাম লিখিয়েছেন নানা অসামাজিক কার্যকলাপে। বিশেষ করে, মুনাফার লোভে মাদক পাচার ও জালনোটের কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন কালিয়াচকের সীমান্তঘেঁষা এলাকার মহিলাদের একাংশ। বিড়ি বেঁধে দিনে গড়ে ১০০-২০০ টাকা রোজগার হয়। কিন্তু, বাড়ির কাজের চাপ থাকলে অনেক দিন সেটুকুও হয় না। সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে মাদক ও জালনোটের কারবারিরা। তারা এইসব মহিলাদের টার্গেট করে মোটা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের কাজে লাগাচ্ছে। কারণ, মহিলাদের খুব একটা সন্দেহ করে না পুলিস।
অল্প সময়ে বেশি রোজগারের আশায় একাংশ মহিলাও অসাধু চক্রের ফাঁদে পা দিচ্ছে। বিশেষত সীমান্ত লাগোয়া সাহাবাজপুর, চরিঅনন্তপুর বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার পারদেওনাপুর, জয়েনপুর এলাকা জাল টাকার কারবারিদের স্বর্গরাজ্য। কারণ, এইসব গ্রামগুলি একদমই সীমান্ত ঘেঁষা। বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার কুম্ভীরা গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়েনপুর, দেওনাপুর জালটাকার কারবারীদের হাবে পরিণত হয়েছে। এই এলাকার বহু জালনোট কারবারে যুক্তরা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পাচার করতে গিয়ে পুলিসের হাতে ধরা পড়ে জেলবন্দি রয়েছে। পাশাপাশি, কালিয়াচক থানা এলাকার সাহাবাজপুরের বামুনটোলার দেড়শোরও বেশি পুরুষ এবং মহিলা ব্রাউন সুগার, মাদক পাচার করতে গিয়ে জেলে রয়েছে। পুলিসের নজরদারি এড়াতে চোরাকারবারিরা মহিলাদের জালনোট ও মাদকের কারবারে ব্যবহার করছে। গত সোমবার রাতে মা ও মেয়েকে পুলিস চার লক্ষেরও বেশি জালনোট সহ গ্রেপ্তার করে পুলিস। মহিলার স্বামীও জালনোট পাচার করতে গিয়ে পুলিসের হাতে ধরা পড়ে জেলবন্দি। পুলিস মাসখানেক আগে পাঞ্জাবের এক দম্পতিকে জালনোট সহ ১৭ মাইল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিসের এক আধিকারিকের বক্তব্য, খুব কম সময়ে লাখ টাকা উপার্জনের জন্যই মহিলারা জালনোট ও মাদকের কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। তবে,পুলিসের চোখ ফাঁকি দেওয়া সহজ নয়। গোয়েন্দা বিভাগ যথেষ্ট সক্রিয়। সেজন্য সহজেই জালনোট, মাদক কারবার আটকানো যাচ্ছে। পাশাপাশি, কারবারিদের গ্রেপ্তার করতেও সমস্যা হচ্ছে না।