নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অন্ধকার রাস্তা ধরে বাড়ি ফেরার পথে খুন হলেন এক মহিলা। শুক্রবার রাতে নন্দকুমার থানার উত্তর কুমোরআড়া গ্রামে ওই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম চন্দনা প্রামাণিক(৪৬)। বাড়ি নন্দকুমার থানার দক্ষিণ কুমোরআড়া গ্রামে। শুক্রবার রাত ৮টা নাগাদ বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে উত্তর কুমোরআড়া গ্রামের একটি রাস্তার ধারে উপুড় অবস্থায় চন্দনাদেবীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। ধস্তাধস্তির জেরে ঠোঁট ও মুখের চামড়া ছিঁড়ে গিয়েছে। শনিবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চন্দনাদেবীর দেহ ময়নাতদন্ত হয়। পরিবারের অভিযোগ, খারাপ উদ্দেশ্যে টানাহ্যাঁচড়া করার সময় বাধা পেয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নন্দকুমার থানার পুলিস।
চন্দনাদেবীর স্বামী ও দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে। স্বামী শঙ্কর প্রামাণিক খাটাখাটুনি করেন। অভাবের সংসার। ওই মহিলা তমলুকে একটি হোটেলে রান্নার কাজ করেন। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় হরিপুর বাসস্টপে এসে বাসে চড়ে তমলুকে নামতেন। কাজ শেষে বাস ধরে বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ বাড়ি ফিরতেন। শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারপর রাত নামতেই বাড়ির লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। হরিপুর থেকে গ্রামে যাওয়ার রাস্তা অন্ধকার। অন্ধকারের মধ্যেই টর্চ লাইট জ্বালিয়ে কুমোরআড়া গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চলে। রাত ৮টা নাগাদ চন্দনাদেবীর দেওর মদন প্রামাণিক বউদির দেহ দেখতে পান। একটি রাস্তার ধারে উপুড় অবস্থায় দেহটি পড়েছিল। তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে গল গল করে রক্ত বেরিয়ে যাচ্ছিল।
জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে চন্দনাদেবীর দেহ পাওয়া যায়। ওই রাস্তা বরাবর তাঁর আসার কথা নয়। বাসস্টপ থেকে বাড়ি যাতায়াতের রাস্তা থেকে অন্যদিকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধস্তাধস্তির সময় তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অনুমান। তবে, শরীরে কোথাও আঘাতের দাগ নেই। তাই পুলিসও ধন্দে পড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চন্দনাদেবীকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে নন্দকুমার ব্লকের খেজুরবেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃতের কাকা মৃত্যুঞ্জয় প্রামাণিক বলেন, এটা খুনের ঘটনা। চন্দনার সঙ্গে গ্রামের কারও কোনও ঝামেলা নেই। সম্ভবত বাইরের কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে খুন করেছে। আমরা দেহ সৎকার করার পরই থানায় খুনের অভিযোগ জানাব। নন্দকুমার থানার পুলিস জানিয়েছে, মৃতার মুখ ও নাক থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। ঠোঁট ও মুখের চামড়া কাটা ছিল। কিন্তু, শরীরে কোথাও কোনও দাগ নেই। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও অস্পষ্ট। পরিবার খুনের অভিযোগ দায়ের করলে সেইমতো তদন্ত হবে।