তেহরান: হাতে ধরা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের ছবিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। সেই আগুন থেকে সিগারেট ধরাচ্ছেন তরুণী। সিনেমার দৃশ্য নয়, বাস্তবে এমন ছবি চোখে পড়ছে ইরানের রাস্তায়। আসলে, খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে চলতে থাকা আন্দোলনের নতুন ট্রেন্ড এটি। কোনও একজন নয়, প্রতিবাদের এই নয়া ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছেন ইরানের অনেকেই। প্রকাশ্যে সর্বোচ্চ নেতার ছবিতে আগুন ধরাচ্ছেন তাঁরা। সেই আগুনে সিগারেট ধরিয়ে ধূমপান করছেন। সেই ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও প্রশাসনের নির্দেশে সে দেশের ইন্টারনেট বন্ধ। তাতে বিক্ষোভের আঁচ এতটুকু কমেনি। বরং আরও বেড়েছে।
দেশের আর্থিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত সরকারি পরিষেবা না মেলার প্রতিবাদে পথে নেমেছে ইরানের আম জনতা। শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত তেহরান সহ একাধিক শহরের রাস্তায় আন্দোলনকারীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকা আন্দোলনে স্বতস্ফূর্ত ভাবেই শামিল হয়েছেন সে দেশের সাধারণ মানুষ। সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন তাঁরা। রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভের ছাপ। যত্রতত্র পড়ে আছে গাড়ির ভাঙা কাচ ও ধ্বংসাবশেষ। কড়া হাতে বিদ্রোহ দমন করছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। আমেরিকার হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আটকের সংখ্যা ২২৭০ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রথমবার এই বিক্ষোভ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের অভিযোগ, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সন্ত্রাসবাদী এজেন্টরা পরিকল্পিতভাবে এই হিংসা ছড়াচ্ছে। সে দেশের রাষ্ট্রীয় টিভি জানায়, এই ঘটনায় হতাহতের খবর রয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করার ইঙ্গিত দেন। তাঁর ভাষণের সময় উপস্থিত সমর্থকরা ‘ডেথ আমেরিকা’ স্লোগান তোলে। খামেনেই বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা অন্য দেশের রাষ্ট্রপতিকে খুশি করতে নিজেদের রাস্তাঘাট ধ্বংস করছে।’ তাঁর মন্তব্যের লক্ষ্য নিশ্চিতভাবেই ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসলে, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রশাসনও। স্বয়ং ট্রাম্প খামেনেই প্রশাসনকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছেন এমন কারও উপর অত্যাচার হলে চুপ থাকবে না আমেরিকা। একদিকে অভ্যন্তরীণ অশান্তি, অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকি, সবমিলিয়ে জেরবার ইরানের সরকার। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের আসল ছবি প্রকাশ্যে আসছে না। তবে গত কয়েক বছরে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে এই বিক্ষোভকে। ছবি: সমাজমাধ্যম