Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছেলেকে কেক আনতে পাঠিয়ে বহুতল থেকে মহিলার মরণঝাঁপ

সচ্ছল পরিবার ছিল গৃহবধূর। একেবারে ভরা সংসার। স্বামীর সিগারেট, জর্দার হোলসেলের ব্যবসা

ছেলেকে কেক আনতে পাঠিয়ে  বহুতল থেকে মহিলার মরণঝাঁপ
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: সচ্ছল পরিবার ছিল গৃহবধূর। একেবারে ভরা সংসার। স্বামীর সিগারেট, জর্দার হোলসেলের ব্যবসা। স্নাতক ছেলেও  কমন অ্যাডমিশন টেস্ট পাশ করে একটি কলেজে চাকরি পেয়েছে। কিন্তু ছেলেকে খিদে পেয়েছে বলে কেক আনতে আবাসনের বাইরে পাঠিয়ে বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন ওই মহিলা। মঙ্গলবার রাতে বোলপুরের আট নম্বর ওয়ার্ডের স্কুলবাগানের একটি পাঁচতলা আবাসনে ‌মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। মৃতা কৃষ্ণা আশ(৪৭) বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই বেশ কয়েক মাস ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এমনকী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসাও চলছিল কৃষ্ণাদেবীর। এর মাঝেই আচমকা এই  মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ। ঘটনায় পুলিস একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণাদেবী  স্বামী নিতাই আশ ও ছেলে কৃষ্ণেন্দুকে নিয়ে বোলপুরের স্কুলবাগানের একটি আবাসনে থাকতেন। শহরের হাটতলায় সিগারেট ও জর্দার হোলসেলের ব্যবসা নিতাইবাবুর। কৃষ্ণেন্দু বোলপুর কলেজ থেকে স্নাতক উত্তীর্ণ হওয়ার পর কমন অ্যাডমিশন টেস্ট পাশ করে একটি কলেজে কাজে যোগ দিতে চলেছেন। নিতাইবাবুর ভাইয়ের সঙ্গে কৃষ্ণাদেবীর বোন শম্পাদেবীর বিয়ে হয়। দু’টি পরিবারই ওই একই আবাসনে থাকত। সম্প্রতি, কৃষ্ণাদেবীর বাবা প্রফুল্লকুমার গণ(৮০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কাকতালীয়ভাবে তাঁর শ্রাদ্ধের দিনেই কৃষ্ণাদেবীর মা কাঞ্চন গণেরও মৃত্যু হয়। ফলে বাবা ও মায়ের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই কৃষ্ণাদেবী ও তাঁর বোন শম্পা দু’জনই ভেঙে পড়েন। পরিবারের দাবি, তারপর থেকেই কৃষ্ণাদেবী মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে ওই মহিলার চিকিৎসাও চলছিল। মঙ্গলবার রাতে আবাসনের বাসিন্দারা দেখেন আবাসন চত্বরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন কৃষ্ণাদেবী। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বোলপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা কৃষ্ণাদেবীকে মৃত ঘোষণা করেন। 
মৃতের ভাগ্নে শুভম আশ বলেন, সন্ধ্যা থেকে সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। এরপর, মামিমা দাদাকে কেক আনতে পাঠিয়ে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেন। তখনও বুঝতে পারিনি আমাদের পরিবারে এরকম ঝড় আসতে চলেছে। এরপর বিকট আওয়াজ শুনে আমরা নীচে নেমে দেখি মামিমা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন।  এদিকে শহরের অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও সম্ভ্রান্ত এলাকা বলে পরিচিত বোলপুরের স্কুলবাগানে এই মর্মান্তিক ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা। ওই আবাসনের বাসিন্দারা বলছেন, কৃষ্ণাদেবী শান্ত, নম্র স্বভাবের ছিলেন। সাতেপাঁচে থাকতেন না। কিন্তু উনি যে এমন কাণ্ড ঘটাবেন, কেউ ভাবতেই পারছি না।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ