সংবাদদাতা, মালদহ: কান্না থামানোর নাম করে মায়ের কোল থেকে ১০ দিনের শিশুকন্যাকে নিয়ে হাসপাতাল চত্বর থেকে উধাও এক মহিলা। মাথায় হাত শিশুকন্যার পরিবারের। সোমবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের মোথাবাড়ি থানার বাঙিটোলা গ্রামীণ হাসপাতালে। ব্লক মেডিকেল অফিসারের (বিএমওএইচ) অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নেমেছে মোথাবাড়ি থানার পুলিশ। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পাশাপাশি খোয়া যাওয়া শিশুকন্যাকে উদ্ধার করতে মোথাবাড়ি থানার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে নাকা চেকিং।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে নিয়ে যান পঞ্চানন্দপুর-১ পঞ্চায়েতের সুলতানটোলার বাসিন্দা মুন্নি বিবি এবং তাঁর শাশুড়ি। মুন্নির স্বামী পিণ্টু শেখ পরিযায়ী শ্রমিক। পেশাগত কারণে এই মুহূর্তে তিনি ভিনরাজ্যে রয়েছেন। চিকিৎসকের সঙ্গে কিছু পরামর্শ করতে যান মুন্নির শাশুড়ি। হাসপাতাল চত্বরে অপেক্ষা করতে থাকা মুন্নির কোলে তখন তারস্বরে কাঁদছিল তাঁর ১০ দিন বয়সি শিশুকন্যা। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলা অযাচিত ভাবে শিশুটির কান্না থামানোর নাম করে তাকে কোলে তুলে নেয় মায়ের কাছ থেকে। এরপরই মায়ের অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে গুটিগুটি পায়ে হাসপাতালের প্রবেশ দ্বারের দিকে এগতে থাকে ওই মহিলা। অপরিচিত ওই মহিলা যে তাঁর শিশুকন্যাকে নিয়ে কখন উধাও হয়ে গিয়েছে তা টেরও পাননি তিনি। আচমকা খেয়াল হতেই মেয়ের খোঁজ শুরু করেন তিনি। ততক্ষণে মেয়ের কান্না থামানোর অছিলায় তাকে কোলে নেওয়া ওই মহিলা উধাও। অসহায় অবস্থায় কান্না জুড়ে দেন মেয়েকে খোয়ানো মা। ছুটে আসেন তাঁর শাশুড়ি সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরেই হাসপাতালে ছুটে যায় মোথাবাড়ি থানার পুলিশ।
মোথাবাড়ির বিএমওএইচ কৌশিক মিস্ত্রি বলেন, এক চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে এসেছিলেন এক মহিলা। সঙ্গে তাঁর পুত্রবধূ এবং নাতনি ছিল। পরে জানা যায় ওই শিশুকন্যাকে নিয়ে অপর এক মহিলা উধাও হয়ে গিয়েছে। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। পুলিশের অনুরোধ অনুযায়ী সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা তাদের হাতে তুলে দিয়েছি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
হাসপাতালের এক কর্মী বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরাও দেখেছি। বেলা ১২টা নাগাদ ওই অজ্ঞাতপরিচয় সন্দেহভাজন মহিলাকে শিশুকন্যা কোলে হাসপাতালের গেট থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। জেলা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মোথাবাড়ি ও ইংলিশবাজার থানার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। অজ্ঞাত পরিচয় ও সন্দেহভাজন মহিলার যাত্রাপথ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।