Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু মহিলার, অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ

বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় মৃত্যু হল এক মহিলার। অপর্ণা মণ্ডল(৫০) নামে হুগলির বাসিন্দা ওই মহিলার স্পাইনাল কর্ডে আঘাত ছিল।

বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু মহিলার, অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় মৃত্যু হল এক মহিলার। অপর্ণা মণ্ডল(৫০) নামে হুগলির বাসিন্দা ওই মহিলার স্পাইনাল কর্ডে আঘাত ছিল। এছাড়া মাথাতেও চোট পান তিনি।  বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। আট দিন  ভর্তি থাকার পর সোমবার সকালে তিনি মারা যান। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুপার তাপস ঘোষ বলেন, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত ছিল। মৃতদেহ ময়নাতদন্ত  করা হবে। রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তন্দু ঘোষ বলেন, হাসপাতাল থেকে যাত্রীর মৃত্যুর কথা জানতে পেরেছি।

Advertisement

১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় বর্ধমান স্টেশনের ৪ নম্বর প্লাটফর্মে আপ হাওড়া লোকাল ঢোকে। ওই ট্রেনটিকেই আবার ডাউন লোকাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। শেষ মুহূর্তে ঘোষণা হওয়ার জন্য যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে ওভারব্রিজে উঠে ওই প্লাটফর্মে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, আপ লোকালের যাত্রীরাও ৪ নম্বর প্লাটফর্মের ওভারব্রিজের উপর চলে আসেন। দু’-দিক থেকে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। অনেকেই হুড়োহুড়িতে পড়ে যান। তার মধ্যে ন’জন জখম হন। তাঁদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দু’জন যাত্রীর আঘাত সবচেয়ে বেশি ছিল। তার মধ্যে ছিলেন অপর্ণাদেবীও। যাত্রীরা বলেন, রেলের গাফিলতির জন্যই মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে। সেদিন আরও অনেকেরই প্রাণ যেতে পারত। তাঁরা বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন। 
বর্ধমান শহর তৃণমূলের সভাপতি তন্ময় সিংহ রায় বলেন, রেলের অব্যবস্থা নিয়ে আমরা বহুদিন ধরেই সরব হয়ে আসছি। ট্রেন ঢোকার অনেক আগেই ঘোষণা করা উচিত। সেটা না করে রেলকর্মীরা শেষ মুহূর্তে ঘোষণা করেন। বয়স্ক এবং মহিলা যাত্রীরা ব্যাপক সমস্যায় পড়েন। তাছাড়া বর্ধমান স্টেশনে এখন যাত্রী সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। আরও একটি ওভারব্রিজ করা দরকার।  সেসব না করে রেলস্টেশনের সামনে অংশ ঝকঝকে করেছে। আসলে কেন্দ্রীয় সরকার সবকিছুতেই গিমিক দিতে চায়।
কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, দুর্ঘটনার পরও রেলের হুঁশ ফেরেনি। এখনও চলমান সিঁড়ি ব্যস্ত সময়ে  বন্ধ থাকছে। কয়েকদিন আগে আমি নিজে ভুক্তভোগী হয়েছি। সন্ধ্যার দিকে স্টেশনে এসে দেখি চলমান সিঁড়ি চলছে না। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হই। রেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরে আবার চলমান সিঁড়ি চালু হয়। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবেই অনেক সময় সিঁড়ি বন্ধ রাখা হয়। যাত্রীদের কথা চিন্তা করে রেলের পরিষেবা উন্নত করা দরকার। বর্ধমান স্টেশনের এক যাত্রী উজ্জ্বল দাশগুপ্ত বলেন, ওভারব্রিজে এখনও ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। কয়েকজন আরপিএফ কর্মী বাঁশি বাজিয়ে যাত্রীদের সরানোর চেষ্টা করছেন ঠিকই, তবে এটা স্থায়ী সমাধান নয়। রেলের বিকল্প কিছু ব্যবস্থা করা উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ