সংবাদদাতা, বর্ধমান: ঘটনার সাত বছর পর নার্সিংহোম ও চিকিৎসকের গাফিলতিতে বৃদ্ধার মৃত্যুতে সাড়ে ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিপূরণ পেল মৃতার পরিবার। বর্ধমান শহরের ভাঙাকুঠি এলাকায় গলব্লাডার অপারেশন করতে গিয়ে মারা যান খণ্ডঘোষ থানার বাদুলিয়া গ্রামের জীবন্নেসা বেগম। সেই মামলায় ২০২২ সালের চিকিৎসক, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও অ্যানাস্থেটিস্টকে ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের আসানসোল সার্কিট বেঞ্চ। রায় ঘোষণার ৬০ দিনের মধ্যে টাকা মিটিয়ে দিতে বলা হয়। অন্যথায় বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে ক্ষতিপূরণের টাকার উপর সুদ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় ক্রেতা আদালত। কিন্তু, টাকা না মিটিয়ে অভিযুক্তরা জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হয়। রাজ্য কমিশনের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নির্দেশ বহাল রাখে জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। তবে, অ্যানাস্থেটিস্টকে সাসপেন্ড করার জন্য রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলকে সুপারিশ সংক্রান্ত সার্কিট বেঞ্চের নির্দেশ অবশ্য খারিজ করে দিয়েছে জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। নির্দেশ মেনে চিকিৎসক, অ্যানাস্থেটিস্ট ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে ক্ষতিপূরণের চেক জমা করেন। দিনকয়েক আগে সেই চেক নিয়ম মেনে হাতে পেয়েছেন মৃতার পরিবার। মৃতার ছেলে মহম্মদ নাসিম বলেন, গলব্লাডারের স্টোন অপারেশন করতে গিয়ে অপারেশনের টেবিলেই মা মারা যান। অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করার পর দেখি, মায়ের মুখে প্রচুর রক্ত লেগে রয়েছে। সবক’টি দাঁত ভাঙা। ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার কারণে মায়ের মৃত্যু হয়। এনিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরে অভিযোগ করি। গাফিলতি নিয়ে ক্রেতা আদালতে মামলা করি। রাজ্য ক্রেতা আদালতের রায় প্রায় পুরোটাই বহাল রেখেছে জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। কেবলমাত্র অ্যানাস্থেটিস্টের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ সংক্রান্ত নির্দেশ বাতিল হয়েছে। ক্ষতিপূরণের চেক পেয়েছি। ক্রেতা আদালতের নির্দেশে আমার অভিযোগ যে ঠিক ছিল তা প্রমাণ হল। ক্রেতা আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের ১০ জুন গলব্লাডারের স্টোন অপারেশন করানোর জন্য বছর পঁয়ষট্টির জীবন্নেসাকে ভাঙাকুঠি এলাকার নার্সিংহোমটিতে ভর্তি করা হয়। সেদিনই অস্ত্রপচারের জন্য তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি মারা যান। এনিয়ে মৃতার পরিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে মামলা করে। আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর ২২ দিন পর কবর থেকে দেহ তুলে ময়না তদন্ত করা হয়। ক্ষতিপূরণ দাবি করে মৃতার ছেলে জেলা ক্রেতা আদালতে মামলা করেন। সেই রায় তাঁর বিপক্ষে যায়। জেলা আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তিনি রাজ্য ক্রেতা আদালতের আসানসোল সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। সার্কিট বেঞ্চ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ, অ্যানাস্থেটিস্ট ও এক চিকিৎসককে সাত লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এছাড়াও মামলার খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না মেটালে বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে ক্ষতিপূরণের টাকার উপরে সুদ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় সার্কিট বেঞ্চ। এছাড়াও অ্যানাস্থেটিস্টের রেজিস্ট্রেশন তিন বছরের জন্য সাসপেন্ড করতে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলকে সুপারিশ করে সার্কিট বেঞ্চ। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও দুই চিকিৎসক জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হন।



