নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: আধার কার্ডে নাম রয়েছে হাচনা বিবি। ভোটার কার্ডে নাম হাচনা রিবি। শুধু এইটুকু পার্থক্য ছিল। এসআইআর আবহে গত দু’মাস ধরে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন কোচবিহারের তুফানগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকা বালাভূতের বাসিন্দা হাচনা বিবি (৫৬।) মঙ্গলবার বিকেলে তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন বলে পরিবারের দাবি। এই ঘটনা সামনে আসতেই বুধবার হইচই পড়ে যায়।
পরিবারের অভিযোগ, বেশকিছু দিন ধরেই উনি এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন। পাশাপাশি এই ভুলের জন্য তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও ভয় পাচ্ছিলেন। হাচনা বিবির স্বামী আসরাফুল শেখের পানের দোকান। দম্পতির দুই ছেলে। তাঁরা ইটভাটায় কাজ করেন। নিতান্ত দরিদ্র পরিবার। দুই ছেলেরও নামের ভুল ছিল। তাঁদের নাম সংশোধন করা হয়েছে। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এমজেএন মেডিকেল কলেজের মর্গে চলে আসেন। হাচনা বিবির ভাইপো বজলে হক বলেন, আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডে নামের পাশে পদবী ভুল নিয়ে দু’মাস ধরে পিসি চিন্তিত ছিলেন। অনেকের কাছে গিয়েছিলেন। আমরাও তাঁকে অনেক বুঝিয়েছি যে এটা ঠিক করা যাবে। পিসি এখানেই জন্মেছেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নামও রয়েছে। এর আগেও ভোট দিয়েছেন। কিন্তু পিসি ওই চিন্তা থেকে বের হতে পারছিলেন না। আর সেই থেকেই এতবড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন, ভাবতেই পারছি না। মঙ্গলবার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।
জেলা তৃণমূল সভাপতি বলেন, আধার কার্ডে হাচনা বিবি, ভোটার কার্ডে হাচনা রিবি। এটা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। সকলেই তাঁকে বুঝিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আআত্মঘাতী হন বলে পরিবারের সদস্যা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় বালাভূতের মানুষ শোকস্তব্ধ, আতঙ্কিত। এই আতঙ্কের জন্য দায়ী বিরোধী দল ও নির্বাচন কমিশন। আগে মানুষকে আতঙ্ক মুক্ত করা উচিত ছিল।
যদিও বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বিরজ বসু বলেন, এসআইআর নির্বাচন কমিশনের কাজ। তৃণমূল সবকিছুতেই প্রথমে আন্দোলন গড়ে তোলে পরে সমর্থন জানায়। অযথা বিজেপিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।
এসআইআর শুরুর আগে কোচবিহারের দিনহাটার এক ব্যক্তি আতঙ্কে বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। হাচনা বিবির ক্ষেত্রে আর শেষ রক্ষা হল না।