নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ফের এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যার অভিযোগ সামনে এল। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় মালগাড়ির সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন দেবকুণ্ড এলাকার বাসিন্দা শাকিলা বেওয়া (৫০)। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকেরই ভোটার তালিকায় নামের ভুল আছে। না হলে বাবার নাম ভুল আছে। সেই ধরনের ভুলের জন্য ফিল আপ করা ফর্ম বাতিল হয়ে যাবে না তো! এই নিয়ে দোলাচলে ভোটাররা। এদিকে মৃতের পরিবারের প্রথম থেকে দাবি, এসআইআরের আতঙ্কে কয়েকদিন যাবৎ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন শাকিলা। তাঁর ২০০২ সালের তালিকায় তার নাম থাকলেও স্বামীর নাম ভুল ছিল। এই নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হন তিনি। তাঁরা আশ্বস্ত করলেও কিছুতেই আতঙ্ক কাটছিল না শাকিলার। তিনি বারবার বলছিলেন, মোদি এবার ধরে নিয়ে যাবে।
রবিবার ভোরে বাড়ি থেকে হঠাৎ বেরিয়ে যান শাকিলা। তারপর চলন্ত মালগাড়ি আসতে দেখে লাইনে ঝাঁপ দেন তিনি। রেল পুলিশ দেহ উদ্ধারের পর মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের পর রবিবার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের দাবি, এসআইআর নিয়ে কয়েকদিন ধরে খুব আতঙ্কিত ছিলেন শাকিলা। মৃতের জামাই সেকেন্দার আলি বলেন, গত ৩-৪ দিন ধরে শাশুড়ি বলছিলেন, আমাকে মোদি ধরে নিয়ে যাবে। বারবার এই কথাই বলছিলেন। আমরা অনেক বোঝানোর চেষ্টা করে বলেছিলাম, কোনও কিছু হবে না। এত চিন্তা করতে হবে না। একটা আতঙ্ক গ্রাস করছিল ওঁকে। হঠাৎ কাউকে কিছু না বলেই এদিন ভোরবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ট্রেন লাইনে ঝাঁপ দিয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মহম্মদ শামিম আখতার বলেন, ২০০২ সালের তালিকায় ওঁর নাম আছে। ২০২৫ সালের তালিকাতেও নাম ছিল। ওঁর আসলে ভয় হয়েছিল, স্বামীর নাম ঠিক নেই। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি অনেকবার আশ্বস্ত করেছিলাম। তারপরেও বারবারও আমার কাছে আসত। প্রতিবার আশ্বস্ত করেছি। আজ শুনছি আত্মহত্যা করেছেন। বহুদিন আগে ওঁর স্বামী মারা গিয়েছেন। উনি বাড়িতে একাই থাকতেন। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। খুব অসহায় লাগছে।
মৃতের ভাইপো নাসিমুল শেখ বলেন, ওঁর স্বামীর নাম ভুল ছিল। আর ওঁর বয়সেরও একটু ভুল ছিল। সেই নিয়ে আতঙ্কে ভুগছিল। দেহ দেখে মনে হচ্ছে ট্রেনের সামনে মাথা দিয়ে দেয়।
বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। যাঁরা বৈধ নাগরিক, তাঁদের তো চিন্তার কিছুই নেই। আসলে এই জেলায় অনেক অনুপ্রবেশকারী স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে রয়েছে। তাঁদের চিন্তার কারণ আছে। আর এখন যে কোনও মৃত্যুই তৃণমূল জোর করে এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু বলে সাজাতে চাইছে। বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, সাধারণ মানুষকে আমরা বোঝাচ্ছি। কিন্তু বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে নির্বাচন কমিশন মানুষের মধ্যে যে ভীতি তৈরি করেছে, তার ফলেই এই নিরীহ মানুষগুলির মৃত্যু হচ্ছে। এর আগে মুর্শিদাবাদ জেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি। এদিন আরও একজন মারা গেলেন। মৃত শাকিলা বেওয়া। (ফাইল চিত্র)।