সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: দুই কন্যা সন্তানের সামনেই চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক বধূ। ওই মহিলার দেহ দু’ ভাগ করে দিয়ে চলে যায় ট্রেনটি। শুক্রবার সকালে সামশেরগঞ্জের নিমতিতা রেল স্টেশন সংলগ্ন ভাঙা লাইনে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম জেসমিরা খাতুন (২৭)। তাঁর বাড়ি সূতি থানার বড় কাঁকড়ামারি গ্রামে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় রেল পুলিস। পারিবারিক অশান্তির কারণেই ওই বধূ আত্মঘাতী হন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান পুলিসের। স্থানীয় লোকজন শিশু দু’টিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
নিমতিতা রেল স্টেশনের সুপারিন্টেন্ডেন্ট মুকেশ কুমার বলেন, স্টেশনের বাইরে রয়েছি, আসলে কী ঘটেছে বিস্তারিত জেনে তবেই এ বিষয়ে মন্তব্য করব।
জানা গিয়েছে, প্রায় বছর দশেক আগে পেশায় রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে রুবেল শেখের সঙ্গে জেসমিরার সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি। দম্পতির পাঁচ ও তিন বছরের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে ওই দম্পতির মধ্যে অশান্তি বেড়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে জেসমিরাকে তাঁর স্বামী মারধর করেছিল বলে অভিযোগ। এদিন সকালে দুই সন্তানকে নিয়ে ডিহিগ্রামে মাসির বাড়ি যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান জেসমিরা। কিন্তু সেখানে না গিয়ে বাড়ি থেকে কয়েক কিমি দূরে সামশেরগঞ্জের নিমতিতা স্টেশন সংলগ্ন ভাঙা রেললাইনের ধারে চলে যান। দুই সন্তানকে নিয়ে রেললাইনের ধারে ট্রেনের অপেক্ষা করছিলেন। আজিমগঞ্জগামী মালগাড়ি আসতেই দুই সন্তানকে কিছুটা দূরে বসিয়ে রেখে ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর দেহের উপর দিয়ে রেল চলে যাওয়ায় ধর থেকে মুণ্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুই শিশু কিছুটা দূরে কান্নাকাটি করতে থাকলে এলাকাবাসীর নজর পড়ে। তাঁরাই পুলিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন মৃতার স্বামী রুবেল শেখ সহ আত্মীয় পরিজনরা। স্ত্রীকে রেললাইনে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে, মৃতার স্বামীও অন্য ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে ধরে ফেলেন। আত্মীয় পরিজনরা মৃতার স্বামীকে অনেক বুঝিয়ে শান্ত করেন।
রুবেল শেখ বলেন, রাতে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। সকালে ও বেড়াতে যাবো বলে ভালো মনেই ঘর থেকে বের হয়। আমিও আপত্তি করিনি, তবে ভাবিনি এমনটা ঘটাবে। দুই মেয়ে কার কাছে থাকবে তা নিয়ে মৃতার বাপের বাড়ির লোকজন ও তাঁর স্বামীর মধ্যে ঝামেলা বাধে। শেষ পর্যন্ত শিশু দু'টিকে তাদের মামা নিয়ে যান।
লক্ষীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মহম্মদ রিগন শেখ বলেন, এদিন কী হয়েছে বিষয়টি জানি না, তবে বহু আগে থেকেই দম্পতির মধ্যে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত। তবে রেলে কাটা পড়ে মৃত্যুর খবর পেয়েছি।