নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (পিএমও) অফিসার পরিচয় দিয়ে সরাসরি নবান্নে পৌঁছে যান এক মহিলা। দেখা করেন পূর্তমন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দারের সঙ্গে। কিন্তু কথাবার্তার মাঝেই তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয় মন্ত্রী ও অফিসারদের। তাঁরা খোঁজ নিয়ে শোনেন, পিএমও’তে ওই নামে কোনো অফিসারই নেই। এরপরই শিবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে দিল্লিতে আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থী নামের ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে দিল্লির স্থানীয় আদালতে পেশ করা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে হাওড়ায় আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, দিনকয়েক আগে পূর্তমন্ত্রীর সচিবকে সরাসরি ই-মেইল করেন আকাঙ্ক্ষা। মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় চান তিনি। নিজেকে পিএমও’র অফিসার হিসাবে পরিচয় দেওয়ায় তাঁকে মন্ত্রীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়। সেইমতো বুধবার গাড়ি নিয়ে নবান্নে পৌঁছন তিনি। মন্ত্রীর সঙ্গে কথাবার্তার সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসংগতি ধরা পড়ে। সন্দেহ হওয়ায় তাঁর পরিচয় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পরে সরাসরি পিএমও’তে যোগাযোগ করা হয়। তখনই মহিলার পরিচয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, পিএমও’র সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। এরপরই বুধবার পূর্তদপ্তরের মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের তরফে শিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৯(২), ২০৪ ও ৩৪০(২) ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নবান্ন থেকে বেরিয়েই কলকাতা বিমানবন্দরে চলে যান আকাঙ্ক্ষা। সেখান থেকে বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তাঁকে ধরতে রাতেই শিবপুর থানার একটি তদন্তকারী দল দিল্লি যায়। নেতৃত্বে ছিলেন এক মহিলা সাব-ইনস্পেক্টর। বৃহস্পতিবার মধ্য দিল্লির আনন্দপর্বত থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে আটক করা হয়। দীর্ঘ জেরার পরই গ্রেপ্তার করা হয় মহিলাকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আকাঙ্ক্ষা এর আগেও নিজেকে কখনো পিএমও’র, কখনো আবার মানবাধিকার কমিশনের অফিসার পরিচয় দিয়ে একাধিক জায়গায় প্রতারণা করেছেন। কিছুদিন আগে উত্তরবঙ্গের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেন আকাঙ্ক্ষা। তদন্তে প্রকাশ, স্কুল তৈরি করতে গিয়ে ওই ব্যবসায়ী তাঁর ফাঁদে পড়েন। নিজেকে প্রভাবশালী প্রমাণ করতে সমাজমাধ্যমে বিজেপির প্রথম সারির একাধিক নেতার সঙ্গে ছবিও পোস্ট করতেন আকাঙ্ক্ষা। এই কেলেঙ্কারিতে আর কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও জেরা করবে পুলিশ।