Bartaman Logo
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পড়ুয়া নেই, কাঁথির জুনিয়র হাইস্কুল এখন ফাঁকা দোতলা ‘ভূতুড়ে’ বাড়ি!

পাশেই একটা প্রাইমারি স্কুল চলছে রমরমিয়ে। অথচ কাঁথির বাঁকাবেড়িয়া জুনিয়র হাইস্কুল পড়ুয়াশূন্য। কোনও ছাত্রছাত্রী নেই। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই স্কুলের এই হাল। পঠনপাঠন বন্ধই হয়ে গিয়েছে।

পড়ুয়া নেই, কাঁথির জুনিয়র হাইস্কুল এখন ফাঁকা দোতলা ‘ভূতুড়ে’ বাড়ি!
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: পাশেই একটা প্রাইমারি স্কুল চলছে রমরমিয়ে। অথচ কাঁথির বাঁকাবেড়িয়া জুনিয়র হাইস্কুল পড়ুয়াশূন্য। কোনও ছাত্রছাত্রী নেই। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই স্কুলের এই হাল। পঠনপাঠন বন্ধই হয়ে গিয়েছে। দোতলা এই হাইস্কুল এখন শুধুই একটা ফাঁকা বাড়ি। রাজ্য সরকার যেখানে শিক্ষায় জোর দিয়ে নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে, সেখানে বাঁকাবেড়িয়া জুনিয়র হাইস্কুলে একজনও পড়ুয়া নেই। এলাকাবাসী চাইছেন, ফের চালু হোক এই স্কুল। পড়ুয়াদের আগমনে গমগম করুক স্কুল। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা এই বিষয়ে জানি। গোটা বিষয়টি জেলাশাসকের নজরে আনা হয়েছে। কী পদক্ষেপ করা যায়, তিনি দেখবেন। তবে যে শিক্ষক রয়েছেন, তাঁকে খুব শীঘ্রই অন্য এক স্কুলে শিফট করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।   

Advertisement

কাঁথি-১ ব্লকের সাবাজপুট পঞ্চায়েতের অধীন বাঁকাবেড়িয়া গ্রামের ঠিক মাঝে  জুনিয়র এই হাইস্কুল। এখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চলত। পাশেই রয়েছে বাঁকাবেড়িয়া প্রাইমারি স্কুল। স্কুলে যারা চতুর্থ শ্রেণি পাশ করত, সেসব পড়ুয়া এখানে ভর্তি হতো। কিছু দূরেই কুলাইপদিমা হাই স্কুল। তাছাড়া এখান থেকে কাঁথি শহরের দূরত্ব এক কিলোমিটার। এক থেকে দেড়-দু কিলোমিটারের মধ্যে শহরে কয়েকটি স্কুল রয়েছে। সেখানে স্থানীয় ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে যায়। এক সময় এই বাঁকাবেড়িয়া জুনিয়র হাই স্কুলে ৫০ জনের কাছাকাছি পড়ুয়া ছিল। স্কুলে ছাত্রসংখ্যা কমার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যাও কমতে থাকে। তাঁরা অন্যত্র বদলি হয়ে যান। শেষমেশ এই স্কুলে একজন স্থায়ী ও একজন অতিথি শিক্ষকই শুধু ছিলেন। 
জানা গিয়েছে, স্থায়ী শিক্ষক মাঝেমধ্যে স্কুলে আসেন। সম্প্রতি ওই স্কুলে গিয়ে দেখা গিয়েছে, দু’তলা মিলিয়ে মোট পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ। তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে সবগুলি। কোথাও জানালায় আগাছা চলে এসেছে। আবার কোনও শ্রেণিকক্ষের জানালাই ভাঙা। শৌচালয় জঙ্গলে ঢাকা। 
স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তাঁরা জানালেন, ছাত্রসংখ্যা কমতে কমতে তিন-চারজন হয়ে গিয়েছিল। 
ওই ক’জন এখানে অনিয়মিত পঠন-পাঠন দেখে অন্য স্কুলে চলে গিয়েছে। এখন স্কুলটির দিকে আর তাকানো যায় না। আবার স্কুলটি চালুর ব্যবস্থা নিক প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট  দপ্তর। 
সাবাজপুট পঞ্চায়েতের প্রধান রামগোবিন্দ দাস বলেন, আশপাশে কয়েকটি স্কুল রয়েছে। নানা কারণে বাঁকাবেড়িয়া জুনিয়র হাইস্কুল ছাত্রছাত্রীশূন্য হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন ও এসআইকে জানিয়েছি। যেহেতু স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব কোনও ঘর নেই,  তাই বন্ধ থাকা স্কুলের একটি রুম নিয়ে সেখানে কেন্দ্রটি অস্থায়ীভাবে চালু হয়েছে। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে এই স্কুল ফের চালু হবে।-নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ