• ‘...লাল জুতো, লাল মোজা দেছেন বাবা কিনে’। আর সেই মোজা জুতো পরে খোকা যাবে মাছ শিকার ধরতে। এ তো ছড়ার কথা। বাস্তবেও কোনও কাজে বাইরে বেরলে জুতো-মোজা ছাড়া উপায় নেই। জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। সোয়েটার-জ্যাকেট-টুপির সঙ্গে পা ঢাকা জুতো আর মোজা মাস্ট। তবে বাকি পোশাকগুলিকে আপনি যতটা গুরুত্ব দেন, মোজা কিন্তু অতখানি পাত্তা পায় না! সে কারণে তার যত্নে খামতি থেকেই যায়। দ্রুত ছিঁড়ে যেতে শুরু করে। সঙ্গে দোসর দুর্গন্ধ। তবে বেশ কয়েকটি উপায় মাথায় রাখলেই মোজা থাকবে একেবারে নতুনের মতো।
মোজা কেবল শীতে ব্যবহার হয়, এই ধারণা ক্লিশে। এখন অফিসিয়াল কাজে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা— সবকালেরই মোজার দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। ফলে পা ঢাকার এই কাপড় জোড়ার পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া দরকার। প্রতিদিন ব্যবহারের পর মোজা অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে। এর জন্য হাতের কাছে থাকুক আরেক জোড়া মোজা। যাতে একটি মোজা জোড়া না শুকালে কাজ চলতে পারে অন্যটি দিয়ে। আসলে ব্যবহৃত মোজায় ঘাম, ধুলো, জীবাণু জমে থাকে। এর ফলে তা দিয়ে বিশ্রী দুর্গন্ধ বেরয়। লোকসমাজে অনেক সময় লজ্জাতেও পড়তে হয়। তবে প্রতিদিন ভালো করে ধুয়ে নিলে মোজা থেকে দুর্গন্ধ বেরনোর সম্ভাবনা কমে। বিশেষত গরমকালে বা অতিরিক্ত হাঁটার পর মোজা ধুয়ে নেবেন। কীভাবে ধোবেন? হালকা ডিটারজেন্ট দিয়ে ঈষদুষ্ণ জলে মোজা ধুলে ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। কাপড়ও তাড়াতাড়ি নষ্ট হয় না।
মোজা ধোয়ার সময় রং ও কাপড়ের ধরন অনুযায়ী আলাদা করে ধোয়া উচিত। জামা-কাপড়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আপনি নিশ্চয়ই মেনে চলেন। সাদা কাপড়ের সঙ্গে রঙিন কাপড় না ধোয়াই দস্তুর। তাহলে মোজার ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানবেন না কেন? সাদা মোজা অন্য রঙের মোজার সঙ্গে ধুলে দাগ পড়তে পারে। আবার উলের বা মোটা কাপড়ের মোজা আলাদা করে না ধুলে সেগুলির গুণগত মান খারাপ হয়। মনে রাখবেন, মোজা খুব বেশি ঘষা উচিত নয়। এতে কাপড়ের রোঁয়া উঠে যেতে পারে। ইলাস্টিক ঢিলে হয়ে যায়।
মোজা শুকানোর ক্ষেত্রেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত রোদে মোজা শুকোলে রং ফিকে হয়ে যায়। কাপড়ও শক্ত হয়ে যায়। তাহলে উপায়? ছায়া রয়েছে আর হাওয়া চলাচল করে এমন জায়গাই মোজা শুকনোর জন্য আদর্শ। শুকনোর আগে মোজার ভাঁজ ঠিক করে নিলে পরে ব্যবহার করার সময় আরাম মেলে।
শুকনো মোজা কোথায় রাখবেন, তাও কিন্তু খুব জরুরি। মোজা ভাঁজ করে পরিষ্কার ও শুকনো জায়গায় রাখতে হবে। ভেজা বা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় রাখলে ছত্রাক জন্মাতে পারে। এটি পায়ের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকারক। একই মোজার জোড়া একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করুন। দেখবেন, তাড়াহুড়োর সময় মোজার অপর জোড়া খোঁজার জন্য অযথা সময় অপচয় হবে না।
মোজার যত্ন তো নিলেন, কিন্তু পায়ের যত্ন? সেটা কিন্তু মিস করবেন না। পা পরিষ্কার না থাকলে ভালোভাবে ধোয়া মোজা পরলেও তাতে দ্রুত দুর্গন্ধ হবে। তাই প্রতিদিন স্নানের সময় পা ভালোভাবে ধুয়ে নিন। স্নানের পর পায়ের আঙুলগুলি ভালো করে মুছে নিন। ভেজা পায়ে মোজা পরবেন না। এতে পায়ের ক্ষতি হয়। নিয়মিত নখ কেটে তবেই মোজা পরুন। নইলে মোজা ছিঁড়ে যেতে পারে। আপনার যদি পা অতিরিক্ত ঘামে, বিশেষ পাউডার পাওয়া যায়। সেটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি দুর্গন্ধও দূর করবে।
শান্তনু দত্ত