নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবারে বড়দিন যেরকম কনকনে শীতের মধ্যে কেটেছে, নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর সময় শীতের তীব্রতা ততটা থাকবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। শুক্রবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমেছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সৌরীশ বন্দ্যেপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী ৪-৫ দিন দক্ষিণবঙ্গে শীতের মাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকবে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আপাতত আর বিশেষ হেরফের হবে না বলেই তাঁরা মনে করছেন। ডিসেম্বরের একেবারে শেষলগ্নে ও জানুয়ারির শুরুতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। ৩০ ডিসেম্বর নাগাদ পশ্চিম হিমালয়ে একটি নতুন পশ্চিমি ঝঞ্ঝা আসছে। তার জন্য উত্তুরে হাওয়ার সক্রিয়তা কিছুটা কমবে। তবে তাপমাত্রা অল্প বাড়লেও বর্ষবরণের উৎসবের সময় শীতের আমেজ থাকবে। ৩১ ডিসেম্বর-১ জানুয়ারি কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪-১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকবে বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১ ডিগ্রি কমে ১২.৯ ডিগ্রি হয়। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের অনেক জায়গায় এদিন ছিল মরশুমের শীতলতম দিন। দক্ষিণবঙ্গের শীতলতম স্থান ছিল বীরভূমের শ্রীনিকেতন (৮ ডিগ্রি)। দক্ষিণবঙ্গের আরও কয়েকটি জায়গাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কম ছিল। এর মধ্যে আছে বর্ধমান (৮.৮ ডিগ্রি), কল্যাণী-সিউড়ি (৯ ডিগ্রি), বাঁকুড়া (৯.২ ডিগ্রি)। দক্ষিণবঙ্গের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ হবে এমন পূর্বাভাস শুক্রবার দেয়নি আবহাওয়া দপ্তর। কিন্তু বর্ধমানে শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কারণ সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৪.৭ ডিগ্রি কম ছিল। আবহাওয়াগত বিচারে সমতল এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কম ও তা সেখানকার স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় অন্তত ৪.৫ ডিগ্রির কম হলে শৈত্যপ্রবাহ হয়েছে বলা হয়। উত্তরবঙ্গে কনকনে শীত অব্যাহত আছে। সমতল এলাকার মধ্যে আলিপুরদুয়ারে (৮ ডিগ্রি) সবথেক কম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। দার্জিলিং শহরের একটি জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪ ডিগ্রি। আপাতত দার্জিলিংয়ে তুষারপাত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
কলকাতার কাছাকাছি জায়গার মধ্যে নদীয়ার কল্যাণীতে শীতের মাত্রা বেশি ছিল। এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে নেমেছে। বারাকপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৬ ডিগ্রি। সৌরীশবাবু জানিয়েছেন, কলকাতার কাছাকাছি জায়গার মধ্যে কল্যাণী, বারাকপুর প্রভৃতি স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম রেকর্ড হওয়ার কারণ আছে। এখানে যে জায়গায় তাপমাত্রা পরিমাপ করার ব্যবস্থা আছে তার চারপাশ ফাঁকা থাকার জন্য উত্তুরে শীতল হাওয়া বাধাহীনভাবে আসতে পারে। তাতে তাপমাত্রার পতন বেশি হয়। কিন্তু আলিপুর আবহাওয়া কেন্দ্রের চারিদিকে উঁচু বাড়িঘর থাকার জন্য হাওয়া আসতে বাধা পায়। তাই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আলিপুরে কিছুটা বেশিই রেকর্ড হয়ে থাকে।