Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

শীতের কাঁপুনি

ছোট্ট বন্ধুরা, এবার বেশ জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। তাই তো? একেই ঠান্ডা, তার উপর হিমেল হাওয়া। অনেক সময় শরীরে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়।

শীতের কাঁপুনি
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ছোট্ট বন্ধুরা, এবার বেশ জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। তাই তো? একেই ঠান্ডা, তার উপর হিমেল হাওয়া। অনেক সময় শরীরে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়। আর ঠান্ডা জলে স্নান করলে তো আর কথাই নেই! দাঁত ঠকঠক করে কাঁপে। মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে, ঠান্ডায় দাঁতের ঠোকাঠুকি কেন লেগে যায়? এর কারণ হল— শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ।

Advertisement


মানুষ উষ্ণ রক্তের প্রাণী। এর মানে হল, এধরনের প্রাণীদের দেহের বা রক্তের তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। তারা নিজের দেহে তাপ উৎপাদন করে তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের দেহের একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা থাকে। যা না থাকলে শরীর যথাযথভাবে কাজ করতে পারে না। তাই শরীরের ভেতরে নির্দিষ্ট এই তাপমাত্রা বজায় রাখতে সদা সচেষ্ট থাকে দেহ। পরিবেশের তাপমাত্রা কম বা বেশি হলেও শরীর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় দেহের তাপ একই রাখতে চেষ্টা করে যায়। কোষীয় বিপাকের মাধ্যমে শরীরের ভেতর থেকে তাপ উৎপাদন করে বলে এরা এন্ডোথার্ম নামেও পরিচিত। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আমাদের শরীরের তাপমাত্রার দিকে কড়া নজরদারি চালায় মস্তিষ্ক। আরও নির্দিষ্ট করে বললে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ। বেশি শীতে শরীরের তাপমাত্রা কম বুঝতে পারলেই হাইপোথ্যালামাস সংকেত পাঠিয়ে দেয় মানুষের দেহে। আর তা পেয়েই ত্বকের নীচে শিরা-উপশিরায় রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয় শরীর। বাইরের পরিবেশের কম তাপমাত্রা যাতে রক্তের উপর প্রভাব না ফেলে সেজন্যই এই ব্যবস্থা। আর বেশি ঠান্ডা লাগলে শরীরে কাঁপতে থাকে। এটাও আসলে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। শরীরের কাঁপুনির ফলে পেশির সংকোচন ও প্রসারণ শুরু হয়। এর ফলে দেহে বাড়তি কিছুটা তাপ উৎপাদন হয়। এর মাধ্যমে শরীরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকে। সারা শরীর কাঁপলে চোয়ালের পেশিও দ্রুত সংকুচিত ও প্রসারিত হতে থাকে। তখন দাঁতে দাঁত লাগে। এতেই ঠকঠক শব্দ হয়। 


শীতে আর একটা বিষয়ও আমাদের কাতর করে তোলে। তা হল চোট-আঘাত। শীতে আঘাত লাগলে অন্যান্য মরশুমের চেয়ে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। যেমন হোঁচট খেলেও অনেক সময় চোখে জল চলে আসে। এর কারণ কী? আগেই বলেছি, বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরে ত্বকের নীচে শিরা-উপশিরায় রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এজন্য রক্তনালীগুলি সংকুচিত হয়ে যায়। রক্তপ্রবাহ কম হলে ত্বকের স্বাভাবিক নমনীয়তা কমে যায়। ত্বক কিছুটা শক্ত হয়ে ওঠে। এজন্য আঘাত পেলে ত্বক সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেজন্য ব্যথা একটু বেশিই মনে হয়। আর শীতে শরীরের স্নায়ুগুলিও অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। 
তা ব্যথার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ