তুলোয় মোড়া আচ্ছাদনে স্বর্গসুখ পাওয়ার দিন যে দোরগোড়ায়। নভেম্বরের শুরু থেকেই শীতের আমেজ রাজ্যজুড়ে। প্রতিদিনের ব্যবহার্য লেপ কম্বল যত্নে রাখবেন কীভাবে?
তুলোয় মোড়া আচ্ছাদনে স্বর্গসুখ পাওয়ার দিন যে দোরগোড়ায়। নভেম্বরের শুরু থেকেই শীতের আমেজ রাজ্যজুড়ে। প্রতিদিনের ব্যবহার্য লেপ কম্বল যত্নে রাখবেন কীভাবে?
মায়ের শত ডাকাডাকি সত্ত্বেও ঘুম ভাঙার নামই নেই। লেপ মুড়ে ওপাশ ফিরে শুয়ে পড়ল ছোট্ট ঈশান। একই অবস্থা সিদ্ধার্থরও। সে অবশ্য খুদে নয়। যুবক। ‘তারে জমিন পর’ হোক বা ‘ওয়েক আপ সিড’— শীত এলে ছবির দৃশ্য বাস্তবের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। সকালবেলা প্রিয় লেপ ছাড়তে কার মন চায় বলুন তো! তুলোয় মোড়া আচ্ছাদনে স্বর্গসুখ পাওয়ার দিন যে দোরগোড়ায়। নভেম্বরের শুরু থেকেই শীতের আমেজ রাজ্যজুড়ে। লেপ, কম্বল নিশ্চয়ই আস্তানা থেকে বেরতে শুরু করেছে এতদিনে? গোটা শীতকাল জুড়ে যে লেপ-কম্বল আপনার প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠবে, তাদের যত্ন নেওয়াও প্রয়োজন। কিন্তু কীভাবে? কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই লেপ-কম্বল পরিষ্কার থাকবে। সারা বছর লেপ কম্বল ব্যবহার হয় না। দীর্ঘদিন আলমারিতে ভাঁজ করে রাখার ফলে সেগুলিতে ধুলো, ছত্রাক, ছোট পোকামাকড়, অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। ভালো করে পরিষ্কার না করে নিলে অ্যালার্জি বা চুলকানি হতে পারে। তাই শীত পড়ার আগেই লেপ, কম্বল বের করে পরিষ্কার করে নিন। রইল তাদের যত্নে রাখার উপায়।
ব্যবহারের আগে
শীতের শুরুতেই পুরনো লেপ, কম্বল বের করে ঝেড়ে পরিষ্কার করে নিন। অত্যধিক ধুলো জমে থাকলে ব্রাশ বা ভ্যাকিউম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। পরিস্কারের সময় মুখে মাস্ক দেবেন। ভালো করে ঝাড়ার পর রোদে দিয়ে রাখুন। দীর্ঘদিন ট্রাঙ্ক, আলমারি বা কোনও বন্ধ ব্যাগের ভিতর থাকার জন্য এতে আর্দ্রভাব থাকতে পারে। ভ্যাপসা গন্ধও বেরতে পারে। অনেক সময় ধুলোপোকাও হতে পারে। রোদে দিলে এগুলি থেকে মুক্তি মেলে। বিশেষত যাঁরা ব্রংকাইটিস, অ্যালার্জিতে ভোগেন, তাঁরা লেপ, কম্বল ব্যবহারের আগে অবশ্যই রোদে দেবেন।
কভার ব্যবহার করুন
লেপের গায়ে ধুলো সহজে আটকায়, তাই ধোয়া যায় এমন কভার ব্যবহার করা ভালো। কভার বারবার ধুয়ে পরিষ্কার করে নিলে লেপটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।
লেপ কীভাবে ধোবেন
শিমুল তুলোর লেপ কাচা বা ড্রাই ওয়াশ করা চলে না। সেক্ষেত্রে বারবার রোদে দিতে হবে। একটা দিক রোদে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর উল্টে অন্যদিকটা দিন। লেপের কভার আলাদা করে কেচে নিতে পারেন। প্রয়োজনে শীতের আগে পুরনো কভার বদলে নিন। কম্বলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। তবে শিমুল তুলো দিয়ে তৈরি না হলে, লেপ কম্বল কাচা যেতে পারে। কিছুক্ষণ শ্যাম্পু জলে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিন। অনেক কম্বলে জল ঢুকলে অত্যন্ত ভারী হয়ে যায়। তাই লন্ড্রিতেও দেওয়া যেতে পারে।
লেপের মেরামতি
পুরনো লেপে সেলাই খুলে যাওয়া বা তুলো বেরিয়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। শীতের আগে এগুলি সেলাই করে নিন। লেপ আবার ফিরে পাবে তার হারানো জেল্লা।
দৈনন্দিন ব্যবহারের নিয়ম
দৈনন্দিন ব্যবহারে কিছু নিয়ম মেনে চললে লেপ আরও ভালো থাকবে। প্রতিদিন ব্যবহারের পর হালকা ঝেড়ে ভালো করে গুছিয়ে রাখুন। সপ্তাহে একবার রোদে দিন। কারও জ্বর, সর্দি কাশি থাকলে, আলাদা কম্বল, লেপ ব্যবহার করুন। বাড়ির পোষ্য লেপের উপর বসলে অনেক সময় ওদের লোম লেপে থেকে যায়। তাই ওদের ব্যবহারের লেপ ভালো করে ঝেড়ে রাখুন। লেপ, কম্বল জড়িয়ে খাবার খাবেন না। এতে লেপে যেমন দাগ লাগার শঙ্কা থাকে, তেমন শরীরেও জীবাণু ঢোকে। ঝুঁকি বাড়ে অ্যালার্জির।
কেনার আগে
কেনার আগে আমাদের রাজ্যে শীতের আবহাওয়া কেমন থাকে, সেটা মাথায় রেখে লেপ, কম্বল কিনুন। খুব ভারী লেপ, কম্বল কেনা অর্থের অপচয় মাত্র। আমাদের রাজ্যে শীত পড়ার নিরিখে হালকা লেপ বা কম্বলই যথেষ্ট। ভোরের দিকে খুব ঠান্ডা লাগলে লেপ বা কম্বলের উপর চাদর নিতে পারেন।
শীতের শেষে
শীতের শেষে লেপ যেখানে রাখবেন, সেখানে ন্যাপথলিন ব্যবহার করুন। ছোট কাপড়ের পুঁটলির মধ্যে ন্যাপথলিন রাখুন। এতে লেপে দাগ লাগবে না। পাশাপাশি দুর্গন্ধের হাত থেকেও রক্ষা পাবে লেপ কম্বল। --- শান্তনু দত্ত