নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: দুর্গাপুজোর পর কালীপুজোতেও পুরুলিয়া জেলাজুড়ে পুলিশের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুজোর আবহে জেলার সদর শহরে ইভটিজিং রুখতে পথে নামছে উইনার্স টিম ও গ্রিন উইনার্সের সদস্যরাও। সেইসঙ্গে যে কোনও প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অ্যান্টি ক্রাইম টিমের সদস্যরা গোটা জেলাজুড়ে নজরদারি চালাবেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে, জেলার রঘুনাথপুর-২ ব্লকের মৌতড়ের কালীপুজোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট জোরদার করা হয়েছে। শুধুমাত্র ওই একটি পুজোকে কেন্দ্র করে ৪০০ জন পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকছেন। সেইসঙ্গে পদস্থ পুলিশ কর্তারাও আসরে নেমেছেন। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কালীপুজোকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ নজর রয়েছে মৌতড়ের পুজোয়। পাশাপাশি জেলা সদরের বড় পুজোগুলিতেও নজরদারি রয়েছে। এছাড়াও গোটা জেলাজুড়ে সিসি ক্যামেরার সাহায্যেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুজোর ক'টা দিন জেলার অভ্যন্তরে যানজট এড়াতেও বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কালীপুজোর প্রথম দিন থেকেই পুরুলিয়ায় আশেপাশের বিভিন্ন জেলা সহ পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ড এবং বিহার থেকেও প্রচুর পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। এই পরিস্থিতিতে ছিনতাই ও পিকপকেট সহ যে কোনওপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো পুলিশমহলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে, পুলিশমহল অবশ্য শুরু থেকেই শক্ত হাতে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কাজ করে চলেছে। ফি বছরের মতো এবারও পুজোর আবহে জেলাজুড়ে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। জোর দেওয়া হয়েছে পেট্রোলিং'এ। এমনকি পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের সীমানাতেও নজর রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে জেলার অভ্যন্তরে যাতে কোনও প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর দিয়ে উর্দিধারী পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীরাও আসরে নেমেছেন।
জেলার অন্যতম বড় পুজো মৌতড়ের প্রতি পুলিশের বিশেষ নজর রয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পৃথক তিনটি শিফটে পুজোর ক’'টা দিন একটানা নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি জেলার সদর শহরের একাধিক বড় পুজো মণ্ডপগুলিতেও জেলা পুলিশের বাড়তি নজরদারি রয়েছে। সেইসঙ্গে পুজোর আবহে দর্শনার্থীদের প্যান্ডেল হপিং’য়ের ক্ষেত্রে যাতে কোনও সমস্যা না দেখা দেয় সেক্ষেত্রে পেট্রোলিং’এ বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বেপরোয়া বাইক ও গাড়ির দৌরাত্ম্যে রাশ টানতেও পুলিশ আসরে নেমেছে। লক্ষ্য, দূর্ঘটনায় রাশ টানা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথে গার্ডরেলও বসানো হয়েছে।