সংবাদদাতা, কালনা: দেড় দশক আগেও অন্ধকারে ছিল নাদনঘাট থানার চাঁদপুরের আঁধার কলোনি। কিন্তু বছর পনেরোর মধ্যে বদলে গিয়েছে চাঁদপুরের চেহারা। রাস্তা থেকে শুরু করে পানীয় জল, বিদ্যুৎ সহ নানা সরকারি পরিষেবা এখন সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন। যে বছর এলাকার বাড়িতে বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ ও বিদ্যুৎ আসে সেই বছর থেকেই স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ মা লক্ষ্মীর আরাধনা শুরু করেন। এরপর স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের উদ্যোগে গড়ে ওঠে স্থায়ী লক্ষ্মী মন্দির। সেখানেই সোমবার রাতভর চলে পুজো। এদিন পুজোয় হাজির ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক প্রমুখ। পুজো উপলক্ষ্যে এদিন স্বপনবাবু এলাকার পঞ্চাশটিরও বেশি আদিবাসী পরিবারের সদস্যদের হাতে নতুন জামা কাপড় তুলে দেন। সবার জন্য ছিল ভোগ প্রসাদের ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদনঘাট থানার শ্রীরামপুর পঞ্চায়েতের চাঁদপুরের এই গ্রাম বাম জমানায় বিদ্যুৎ, রাস্তা, পানীয় জলের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। সরকারি কোনও সুযোগ, সুবিধাও ছিল না। ফলে গ্রামে সন্ধ্যা নামলেই কেরোসিনের আলো জ্বলত ঘরে ঘরে। সেই থেকেই এই গ্রাম আধার কলোনি নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। রাজ্যে পালাবদলের পর রাস্তাঘাট, পানীয় জলের পরিষেবা সহ গ্রামে বসে বিদ্যুতের খুঁটি। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল ও বিদ্যুতিক আলোয় ঝলমলিয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সেই থেকেই এই গ্রামে লক্ষ্মীপুজো হয়ে আসছে। পুজো উপলক্ষ্যে সোমবার দুপুর থেকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বাসিন্দাদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন স্বপনবাবু। সবার সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠেন মন্ত্রী। এলাকার বাসিন্দা ভক্ত সর্দার বলেন, এক সময় সন্ধ্যা নামলে গোটা গ্রাম ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যেত। কেরোসিনের বাতিই ছিল ভরসা। আজ রাস্তা, পানীয় জল সহ ঘরে, ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। এর জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ।
স্বপনবাবু বলেন, এক সময় অনুন্নয়নের কারণে এই এলাকা আধার কলোনি নামেই পরিচিত ছিল। আজ গ্রামে রাস্তা হয়েছে। ঘরে, ঘরে পৌঁছেছে পানীয় জল সহ বিদ্যুৎ। বহু পরিবার এখানে সরকারি ঘর পেয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে জয়জোহার সহ নানা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। এর জন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ।