


সংবাদদাতা, মালদহ: রেলের উদ্বোধনে এসে প্রধানমন্ত্রী মুখ খুলুন নদী ভাঙন এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে। এই দাবি তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেস। অন্যদিকে, বিরোধীদের পালটা জবাব দিয়েছে মালদহ জেলা বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী মালদহে আসার আগে থেকে তাই গরম হচ্ছে জেলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডল। প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক সভা থেকে কী, কী বিষয়ে বক্তৃতা দেন তার দিকেও নজর রয়েছে বিজেপি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির।
মালদহ জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মালদহে আসছেন ট্রেনের উদ্বোধন করতে। তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু মালদহে এলে প্রধানমন্ত্রীকে ভাঙন ও পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে কেন্দ্রের মনোভাব জানাোত হবে। এই দু’টি এখন শুধু মালদহ বা রাজ্যের নয়, একেবারে জাতীয় স্তরের সমস্যা।
রহিমের বক্তব্য, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা খুন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মালদহে এসে প্রধানমন্ত্রী এবিষয়ে মুখ বন্ধ করে থাকতে পারেন না। আমরা চাই তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে কথা বলুন। পাশাপাশি, নদী ভাঙনে মালদহের লক্ষ লক্ষ মানুষ বিপর্যস্ত। তাঁদের সুরাহার কথাও বলতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে।
একই সুরে মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী বলেন, রাজস্থানে কাজ করতে গিয়ে মালদহের যুবককে বাংলাদেশে যেতে হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের কোনও জাতীয় বিমা নেই। ভাঙন মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছে। রেলের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ পেলে এই বিষয়গুলি তুলব। তাঁর বক্তব্যও জানতে চাইব। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি চুপ করে থাকতে পারেন না।
জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তথা সিপিএমের জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্রর কথায়, প্রধানমন্ত্রী প্রিমিয়াম ট্রেন উদ্বোধন করছেন, ঠিক আছে। কিন্তু মালদহের পাঁচ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কী ভাবছে, তা প্রকাশ্যে জানাতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। একই ভাবে নদী ভাঙন যেভাবে মালদহের অস্তিত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের সামনে তাঁর সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে।
পালটা মালদহ দক্ষিণ জেলা বিজেপি সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, পরিযায়ী শ্রমিক তৈরি করেছে তৃণমূল এবং সিপিএম। সারা দেশে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরিযায়ীরা নিরাপদ। তাঁরা বিজেপি শাসিত রাজ্যে বেশি মজুরির আশায় কাজে যান। আমরা রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এত কলকারখানা হবে, কাউকে বাইরে উপার্জনের সন্ধানে যেতে হবে না।
ভাঙন প্রসঙ্গে অজয়ের মন্তব্য, ভাঙনের জন্য কেন্দ্র যথেষ্ট সাহায্য করে। কিন্তু কেন্দ্রীয় অর্থ চুরি করে তৃণমূল। বিজেপি ভাঙন সমস্যারও সমাধান করবে। বিরোধীরা ঠিক করে দিতে পারেন না প্রধানমন্ত্রী কী বলবেন। • হেলিকপ্টারের ট্রায়াল। - নিজস্ব চিত্র।