নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বহু নিত্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য, যন্ত্রাংশ, উপকরণ অথবা কাঁচামালের উপর জিএসটি কমে যাওয়া সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গ সুফল আম জনতার কাছে পৌঁছবে তো? এই সংশয় ও সন্দেহ খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের। গত ৪৮ ঘণ্টায় দফায় দফায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক ও শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রক সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। আর সেইসঙ্গে বণিক মহলকে বুঝিয়ে দিয়েছে, জিএসটিতে পাওয়া ছাড় যেন সাধারণ ক্রেতা ও গ্রাহকের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছয়। আবেদন এবং নরমে গরমে হুঁশিয়ারি—এই দুই পদ্ধতিই এক্ষেত্রে নিয়েছে কেন্দ্র। কারণ, নির্মলা সীতারামনের রাত ১০টার সাংবাদিক সম্মেলনে আশার যে জোয়ার মধ্যবিত্তের মধ্যে আছড়ে পড়েছিল, তা কিছুটা যেন ধাক্কাই খেয়েছে। অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘জিএসটি ছাড় পাওয়ার পর শিল্প মহল, বণিক মহল শিল্পমহল নিজেরা ছাড়ের সুবিধা নিক। কিন্তু সেই একই ছাড় ক্রেতাদেরও পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে পাইয়ে দিতে হবে। এদিকে কিন্তু অর্থমন্ত্রক, উপভোক্তা মন্ত্রক, বাণিজ্য মন্ত্রক সকলেই কড়া নজর রাখবে।’ এখানেই শেষ নয়। দু’দিন ধরে শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল শিল্পমহল, বাণিজ্য সংগঠন এবং বণিকসভার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। শুক্রবারও গোয়েল বলেন, ‘আমাকে শিল্প-বাণিজ্য মহল থেকে আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, তারা জিএসটি ছাড়ের সুবিধা আম জনতার কাছে পৌঁছে দেবে।’ কিন্তু সরকার কেন এই সন্দেহ করছে যে, শিল্প ও বাণিজ্য মহল পূর্ণাঙ্গ সুবিধা আম জনতাকে নাও দিতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘শিল্প ও বাণিজ্য সেক্টরকে জিএসটি যতগুলি স্তরে ছাড় দেবে, তার জেরে তাদের আর্থিক সাশ্রয় বিপুল হতে চলেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ শিল্পসংস্থাগুলির। কিন্তু সেই সাশ্রয় নিজেরা আত্মসাৎ করে বসে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সরকারের এই বৈপ্লবিক ঘোষণার মূল্য থাকবে না। তাই সরকার আগাম শিল্প ও বাণিজ্য মহলের কাছে প্রতিশ্রুতি চাইছে এবং আবেদনও করছে যে, তারা যেন স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করে।’ গোয়েল বলেন, ‘বণিক মহল আমাদের আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা জিএসটি বাবদ যে সুবিধা পাবে, সেটাই আম জনতাকে দেবে। কিন্তু একইসঙ্গে, নিছক এই আশ্বাসের উপর ভরসা করে বসে থাকতে সরকার রাজি নয়। সেই কারণে তৈরি হবে মনিটরিং কমিটি। ইন্টারমিনিস্ট্রিয়াল মনিটরিং কমিটির মধ্যে থাকবেন একাধিক মন্ত্রকের প্রতিনিধি। রাজ্যগুলির সঙ্গেও কথা হবে, যাতে তাদের পক্ষ থেকেও নজরদারি থাকে। এর জন্য বিশেষ মেকানিজম তৈরি হচ্ছে।’



