Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

জিএসটি ছাড়ে পণ্যের দাম কমবে তো? উদ্বেগে কেন্দ্র

বহু নিত্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য, যন্ত্রাংশ, উপকরণ অথবা কাঁচামালের উপর জিএসটি কমে যাওয়া সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গ সুফল আম জনতার কাছে পৌঁছবে তো? এই  সংশয় ও সন্দেহ খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের।

জিএসটি ছাড়ে পণ্যের দাম কমবে তো? উদ্বেগে কেন্দ্র
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বহু নিত্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য, যন্ত্রাংশ, উপকরণ অথবা কাঁচামালের উপর জিএসটি কমে যাওয়া সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গ সুফল আম জনতার কাছে পৌঁছবে তো? এই  সংশয় ও সন্দেহ খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের। গত ৪৮ ঘণ্টায় দফায় দফায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক ও শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রক সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। আর সেইসঙ্গে বণিক মহলকে বুঝিয়ে দিয়েছে, জিএসটিতে পাওয়া ছাড় যেন সাধারণ ক্রেতা ও গ্রাহকের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছয়। আবেদন এবং নরমে গরমে হুঁশিয়ারি—এই দুই পদ্ধতিই এক্ষেত্রে নিয়েছে কেন্দ্র। কারণ, নির্মলা সীতারামনের রাত ১০টার সাংবাদিক সম্মেলনে আশার যে জোয়ার মধ্যবিত্তের মধ্যে আছড়ে পড়েছিল, তা কিছুটা যেন ধাক্কাই খেয়েছে। অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘জিএসটি ছাড় পাওয়ার পর শিল্প মহল, বণিক মহল শিল্পমহল নিজেরা ছাড়ের সুবিধা নিক। কিন্তু সেই একই ছাড় ক্রেতাদেরও পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে পাইয়ে দিতে হবে। এদিকে কিন্তু অর্থমন্ত্রক, উপভোক্তা মন্ত্রক, বাণিজ্য মন্ত্রক সকলেই কড়া নজর রাখবে।’ এখানেই শেষ নয়। দু’দিন ধরে শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল শিল্পমহল, বাণিজ্য সংগঠন এবং বণিকসভার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। শুক্রবারও গোয়েল বলেন, ‘আমাকে শিল্প-বাণিজ্য  মহল থেকে আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, তারা জিএসটি ছাড়ের সুবিধা আম জনতার কাছে পৌঁছে দেবে।’ কিন্তু সরকার কেন এই সন্দেহ করছে যে, শিল্প ও বাণিজ্য মহল পূর্ণাঙ্গ সুবিধা আম জনতাকে নাও দিতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘শিল্প ও বাণিজ্য সেক্টরকে জিএসটি যতগুলি স্তরে ছাড় দেবে, তার জেরে তাদের আর্থিক সাশ্রয় বিপুল হতে চলেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ শিল্পসংস্থাগুলির। কিন্তু সেই সাশ্রয় নিজেরা আত্মসাৎ করে বসে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সরকারের এই বৈপ্লবিক ঘোষণার মূল্য থাকবে না। তাই সরকার আগাম শিল্প ও বাণিজ্য মহলের কাছে প্রতিশ্রুতি চাইছে এবং আবেদনও করছে যে, তারা যেন স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করে।’ গোয়েল বলেন, ‘বণিক মহল আমাদের আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা জিএসটি বাবদ যে সুবিধা পাবে, সেটাই আম জনতাকে দেবে। কিন্তু একইসঙ্গে, নিছক এই আশ্বাসের উপর ভরসা করে বসে থাকতে সরকার রাজি নয়। সেই কারণে তৈরি হবে মনিটরিং কমিটি। ইন্টারমিনিস্ট্রিয়াল মনিটরিং কমিটির মধ্যে থাকবেন একাধিক মন্ত্রকের প্রতিনিধি। রাজ্যগুলির সঙ্গেও কথা হবে, যাতে তাদের পক্ষ থেকেও নজরদারি থাকে। এর জন্য বিশেষ মেকানিজম তৈরি হচ্ছে।’ 

Advertisement

সরকারের এই আশঙ্কার পিছনে কারণ কী? জানা যাচ্ছে, সরাসরি কোনও পণ্যের জিএসটি যেমন সরকারি সিদ্ধান্তে কমে যাবে, তেমনই পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল, উপকরণ, যন্ত্রাংশের জিএসটিও কমবে। অর্থাৎ পণ্য উৎপাদনের ব্যয় কম হবে। সেক্ষেত্রে সরকার চায়, সেইসব উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের জেরে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলির দামও যাতে কমানো হয়। গোয়েল বলেন,  ‘জিএসটি কমে যাওয়ার ফলে যদি সঠিকভাবে সর্বস্তরে এই করছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে উৎসবের মরশুম থেকেই বিপুল পণ্য চাহিদা বাড়বে। আর সেই চাহিদার জেরে শিল্প-বাণিজ্য মহলেরই লাভ হবে সবথেকে বেশি।’
সরকারের আশঙ্কার আর একটি কারণ হল, জিএসটির হার কমে যাওয়ায় আচমকা উৎসবের মরশুমে গণহারে পণ্যের বেস প্রাইস বাড়িয়ে দিতে পারে সংস্থাগুলি। তার ফলে জিএসটি শূন্য হয়ে গেলেও ক্রেতারা যথার্থ ছাড় পাবেন না। এই পরিস্থিতিতে মোক্ষম প্রশ্নটি হল, ইতিমধ্যেই যেসব পণ্য সর্বত্র মজুত হয়ে গিয়েছে, সেগুলির মধ্যে জিএসটির পুরনো হারই অন্তর্ভুক্ত। ২২ তারিখের পর সেইসব পণ্যের দাম কী হবে? ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বিবাদের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার বিস্তারিত কোনও বিধি-বিজ্ঞপ্তি জারি করার ভাবনাচিন্তাও করছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ