নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কালীগঞ্জ বিধানসভায় চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ৭ শতাংশ ভোট বাড়িয়েছিল বাম-কংগ্রেস জোট। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে এই কেন্দ্রে ১১.৯৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তারা। কিন্তু চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে সেই ভোট শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮.২৯ শতাংশ। যদিও লোকসভা নির্বাচনে এই ভোট বৃদ্ধির পিছনে কালীগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূলের তরমুজ নেতাদের অবদান ছিল বলেই মনে করে রাজনৈতিক মহল। কিন্তু আসন্ন উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস তাদের সেই ভোট ধরা রাখতে পারবে কি না, তা বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক মহলের দাবি, উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস যদি তাদের ভোট ধরে রাখতে পারে তাহলে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অক্সিজেন পাবে তারা। ২৩ জুন উপনির্বাচনের ফলাফল বেরলেই তা স্পষ্ট হবে।
দেখা যাচ্ছে, গত একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নাসিরুদ্দিন আহমেদ ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে সেই ভোটের হার কমে দাঁড়ায় ৪৬ শতাংশ। ঘটনাচক্রে, বামেদের ভোট বৃদ্ধি এবং তৃণমূল ভোট হ্রাসের পার্থক্য ৭ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জের তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছিল। যার ফলে লাভ হয়েছিল বাম-কংগ্রেসের। অন্যদিকে বিজেপির ভোট ব্যাঙ্কের খুব বেশি হেরফের হয়নি। একুশে ৩০.৯১ শতাংশ এবং চব্বিশে ৩১.৫২ শতাংশ ভোট পায় বিজেপি। তাঁদের লক্ষ্য, নিজেদের ভোট ধরে রাখার। তাই বিজেপি কালীগঞ্জ বিধানসভার গোবরা, মাটিয়ারি ফরিদপুর, কালীগঞ্জের মতো পঞ্চায়েতগুলোর দিকে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে। অন্যদিকে বাম-কংগ্রেস নিজেদের বাড়তি ভোট ধরে রাখতে পারবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
এমনিতেই প্রার্থী নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানা চলেছে জোট শিবিরে। উপনির্বাচনে কালীগঞ্জে প্রার্থী দিতে চেয়েছিল সিপিএম। প্রার্থীর দাবিদার ছিল বামফ্রন্টের শরিক দল আরএসপিও। কিন্তু এরই মধ্যে কংগ্রেস ওই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে। যা নিয়ে প্রথমদিকে আপত্তি জানায় সিপিএমের নীচুতলা। সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব কংগ্রেসকে সমর্থন জানালেও, রাজি ছিল না স্থানীয় নেতৃত্ব। যার জন্য ম্যারাথন বৈঠকও হয়েছিল। শেষপর্যন্ত বাম শিবিরে বরফ গলে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ বাদে যৌথ প্রচারে দেখা যায় বাম কংগ্রেসকে। যদিও কংগ্রেসের শিবিরেও দ্বন্দ্বের আবহ ছিল। ভোট প্রচারে শুরুর দিকে কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের সেভাবে দেখা যাচ্ছিল না। তবে সম্প্রতি সকলেই একসঙ্গে ময়দানে নেমেছে। এরই মধ্যে কালীগঞ্জ বিধানসভায় বেশ কয়েকজন সিপিএম সদস্য ও বাম কর্মী সমর্থক তৃণমূলে যোগদান করেছেন। যা উপনির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কালীগঞ্জের সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, লোকসভা নির্বাচনে আমরা ভালো ভোট পেয়েছিলাম। আমরা আশাবাদী, আসন্ন উপনির্বাচনেও তার পুনরাবৃত্তি হবে। মানুষ তৃণমূলের অপশাসনের অবসান চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী তৃণমূল ও বিজেপি দ্বারা যৌথ ভাবে পরিচালিত দেবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সঞ্চালক। তাই তৃণমূল ও বিজেপির এই ছদ্ম লড়াইয়ের মুখোশ খুলে দিয়ে এবং বাম ও সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল শক্তিকে জয়ী করতে হবে।
কালীগঞ্জ ব্লকের তৃণমূলের সহ সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা বিরোধী শিবির নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। উপনির্বাচনে অতীতের রেকর্ড ভেঙে ফেলাই আমাদের লক্ষ্য।