


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্লাস্টিক ‘লবি’র চাপে মোদি সরকার কি চাল, গমের মতো খাদ্যশস্যের প্যাকেজিংয়ে চটের ব্যাগ ব্যবহার কমানোর পরিকল্পনা করছে? চিনির ক্ষেত্রেও কি প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহারের নীতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে? প্রকাশ্যে না হলেও সরকারের অন্দরে এমনই কিছু ‘ষড়যন্ত্র’ চলছে খবর পেয়েই তা রুখতে সক্রিয় তৃণমূল। দলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারর্পাসন দোলা সেন এ ব্যাপারে সরকারের ‘ফন্দি’ ভেস্তে দিতে উদ্যোগী। সরাসরি বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন সরকারের মনোভাব। একইসঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনওভাবেই আবশ্যিক নীতি বদলানো যাবে না।
খাদ্যশস্য প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ চটের ব্যাগই ব্যবহার আবশ্যিক। একইভাবে চিনির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২০ শতাংশ প্যাকেজিং করতে হবে চটের। বাকি প্লাস্টিক। বাংলার পাট চাষিদের কথা মাথায় রেখে চটের ব্যাগেই খাদ্যশস্যের প্যাকেজিং নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সদস্য থাকার সময় সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইভাবে এবার সরকারের অন্দরের কানাঘুষো শুনতে পেয়েই সক্রিয় দোলাদেবী। তাঁর কাছে খবর, চাল-গমের মতো খাদ্যশস্যের প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে চটের ব্যাগ ব্যবহার ১০ শতাংশ কমানো হতে পারে। তাই বিলম্ব না করে গিরিরাজ সিংকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করে নিতে চেয়েছেন। প্রথম দফায় গিরিরাজ ‘বিষয়টি দেখছি’ বলে জানালেও পরে অন্য চিঠিতে আশ্বাস দিয়েছেন, আইনের কোনও অমান্য হবে না।
অন্যদিকে, এবার খরিফে অনেক বেশি জমিতে চাষ হয়েছে বলেই জানিয়েছে কৃষিমন্ত্রক। খরিফে চাষের এলাকা গতবারের চেয়ে ৬. ৫১ লক্ষ হেক্টর বেড়েছে। মোট চাষ হয়েছে ১১২ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে। দেশজুড়ে জলাধারে জলস্তরও সন্তোষজনক। ফলে উৎপাদন বাড়বে। ভবিষ্যতে খাদ্যশস্যের দাম কমারও সম্ভাবনা রয়েছে। ধান, গম, ভুট্টা, আখ ও ডালের চাষ বেড়েছে। বিউলি ডালের চাষের এলাকা ২২.৮৭ লক্ষ হেক্টর থেকে বেড়ে হয়েছে ২৪.৩৭ লক্ষ হেক্টর। টম্যাটো, পেঁয়াজ এবং আলু চাষের এলাকাও একইভাবে বেড়েছে। পেঁয়াজ চাষের এলাকা ৩.৬২ লক্ষ হেক্টর থেকে বেড়ে হয়েছে ৩.৯১ লক্ষ হেক্টর। আলু ০.৩৫ লক্ষ হেক্টর থেকে বেড়ে ০.৪৩ লক্ষ হেক্টর। টম্যাটো চাষের এলাকাও ১.৮৬ লক্ষ হেক্টর থেকে বেড়ে হয়েছে ২.৩৭ লক্ষ হেক্টর। ফলে খরিফ চাষের উৎপাদন নিয়ে সরকার অত্যন্ত আশাবাদী।