নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আড়িয়াদহের ত্রাস জয়ন্ত সিংয়ের বাড়ি ভাঙতে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই কাজে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় ভর্ৎসিত হতে হয়েছিল কামারহাটি পুরসভাকে। এরপর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় টেন্ডার ডেকে ওই বাড়ি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে কাল, শুক্রবার ভাঙার কাজে হাত দেওয়া হবে। তার আগে আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে কিছু ব্যাখ্যা চেয়ে আবেদন করতে চলেছে পুরসভা। পুর প্রশাসনের দাবি, ওই বাড়ির মালিকানা দাবি করে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে আদালতে। কেউ বলছেন, হাইকোর্টের নির্দেশে বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত রদ হয়েছে। কেউ বলছেন, বাড়ির লোককে জানানো হচ্ছে না। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এই পরিস্থিতিতে পুরসভা বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু করবে, নাকি আরও অপেক্ষা করবে, তা জানতে চাওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে জয়ন্ত সিং ওরফে ‘জায়ান্ট’-এর বেআইনি বাড়ির খবর। আড়িয়াদহে এক যুবক ও তাঁর মাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর, তালতলা ক্লাবে এক নাবালকের উপর নৃশংস অত্যাচার সহ নানা অভিযোগে পুলিস জয়ন্ত ও তার দলবলকে গ্রেপ্তার করেছিল। জয়ন্তর প্রাসাদোপম বাড়ি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। পুরসভা তদন্তে নেমে জানতে পারে, আড়িয়াদহের ১ নম্বর প্রতাপ রুদ্র লেনে প্রায় ১ কাঠা ৮ ছটাক জমিতে গড়ে ওঠা ওই অট্টালিকা বেআইনি। ওই জমিতে জয়ন্ত বাড়ি করলেও তার মালিকানা অন্যের নামে। পুরসভা বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে মালিকদের ডেকে পাঠালেও মালিকপক্ষের হদিশ মেলেনি। এনিয়ে আদালতে মামলা হলে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের সিঙ্গল বেঞ্চ ওই বেআইনি বাড়ি আট সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। পরে পুরসভা সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করলে বিচারপতির রোষের মুখে পড়ে। এরপর তারা টেন্ডার ডেকে ওই বাড়ি ভাঙার এজেন্সি ঠিক করে। শুক্রবার সেই কাজ শুরু হওয়ার কথা।
এদিকে, জয়ন্তর পক্ষ নিয়ে তার কাকা আদালতে গিয়েছেন। পুরসভা সূত্রে খবর, বুধবার জয়ন্তর ভাই ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে বাড়ি ভাঙার নির্দেশ ঠেকানোর চেষ্টায় নেমেছেন। এই পরিস্থিতিতে পুরসভা আজ বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুর চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশ মেনে বাড়ি ভাঙার প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামী ১৩ জুন থেকে ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার কথা। এই কাজ আটকাতে এখন একের পর এক মামলা হচ্ছে আদালতে। আসছে নানা ব্যাখ্যা। তাই পুরসভা সরাসরি আদালতে মামলা করে বাড়ি ভাঙার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই জমি মালিকের এখনও হদিশ পাওয়া যায়নি। ফলে যাঁরা নিজের বাড়ি বলে দাবি করে আদালতে যাচ্ছেন, তাঁদের এক্তিয়ার কতটা, তা স্পষ্ট নয়। আগামী দিনে বিপদের ঝুঁকি এড়াতেই ফের আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।