নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা কত হবে, আদৌ কাউকে দলের সম্ভাব্য ‘মুখ’ হিসেবে তুলে ধরা হবে কি না, এমন একাধিক বিষয়ে দলীয় সমীকরণ এখনও পর্যন্ত মেলাতে পারেনি বঙ্গ বিজেপি। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিশানির্দেশ মতো প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও ভোটের আগে দলের মধ্যেই কড়া চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে চলেছেন বঙ্গ বিজেপির দলবদলুরা। বঙ্গ বিজেপির শাসক শিবির থেকে বারবারই বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, আবার বাংলার গেরুয়া শিবিরে ফিরতে চলেছে আদিপন্থীদের জমানাই। নতুনরা থাকবেন ঠিকই। একাধিক দায়িত্বও সামলাবেন। কিন্তু অভিজ্ঞতার নিরিখে এবার থেকে বহু ক্ষেত্রেই শেষ কথা বলবেন আদিপন্থী নেতারাই। সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ‘আদি’পন্থী শমীক ভট্টাচার্য। দলীয় সূত্রের খবর, তাঁর নয়া ‘টিম’ প্রধানত আদিপন্থী নেতা-খচিতই হতে চলেছে। এক্ষেত্রে চর্চা শুরু হয়েছে বঙ্গ বিজেপির দু’জন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং রাহুল সিনহার নাম নিয়ে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল যে, দলে যখন আদিপন্থী নেতাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ঘটনাচক্রে তখনই রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি অসীমকুমার ঘোষকে হরিয়ানার রাজ্যপাল নিযুক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সোমবারই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাওড়ার বাসিন্দা অসীমবাবু বঙ্গ বিজেপির বহু পুরনো দিনের কর্মী। রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, বঙ্গ বিজেপির এহেন আদিপর্ব স্বাভাবিক কারণেই রাতের ঘুম উড়িয়ে দিচ্ছে দলবদলু নেতাদের। এই প্রেক্ষিতেই জানা যাচ্ছে যে, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পরেই বঙ্গ বিজেপির ‘কোর’ টিমকে দিল্লিতে ডেকে পাঠাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তাঁরা আলাদা করে দলীয় এমপিদের সঙ্গেও বৈঠকে বসতে পারেন। তবে আপাতত যে প্রশ্নে চর্চা শুরু হয়েছে, তা হল ‘কোর’ টিমকে ডাকা হলেও সেখানে কি আদৌ দলবদলুরা ডাক পাবেন? যদি না পান, তাহলে তা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে আগামী ১৮ জুলাই রাজ্যে গেলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকের সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ বলেই অন্দরের খবর। রাজ্য বিজেপির সাম্প্রতিক আদি ও দলবদলু বিতর্ককে অবশ্য খাটো করাতে দেখাতে চেয়েছেন রাহুল সিনহা। তিনি নিজে আদিপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত। সিনহা ‘বর্তমান’কে বলেন, ‘আমি নিজে আদি এবং নব্য এমন বিভাজনে বিশ্বাসী নই। আমার সভাপতিত্বে সবথেকে বেশি মানুষ ভিন দল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা দলের কাজ করছেন, কিন্তু এখন আড়ালে রয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে সক্রিয় করা প্রয়োজন।’