পিনাকী ধোলে পুরুলিয়া
পিনাকী ধোলে পুরুলিয়া
ফের বাঘমুন্ডি এলেন আজসু (অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন) সুপ্রিমো তথা ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী সুদেশ মাহাত। কিছুদিন আগেই মাঠাতে একটি গোপন সাংগঠনিক বৈঠক করেছিলেন আজসু প্রধান। রবিবার সন্ধ্যায় ফের তিনি এলেন এক কর্মীর বাড়িতে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে। তবে তা ছিল উপলক্ষ্য মাত্র। ওইদিন একটি বেসরকারি লজে কর্মীদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। শীঘ্রই তিনি ফের বাঘমুন্ডি আসবেন বলেও জানিয়ে গিয়েছেন। সামনেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে আজসু সুপ্রিমোর এই আনাগোনা নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সেই চর্চায় অন্য মাত্র যোগ করেছে বাঘমুন্ডি বিধানসভার ভোটার হতে তাঁর আবেদন! এইসব ঘটনা প্রবাহে আজসু শিবির ব্যাপক উত্তেজিত হলেও মুখ ফ্যাকাশে বিজেপি নেতাদের।
আজসু সুপ্রিমো সুদেশ বাঘমুন্ডি লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের সিল্লি বিধানসভার তিন বারের বিধায়ক। শেষ মুহূর্তে তুরুপের তাস খেলে উপ মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছেন ‘সিল্লি-বয়’। কয়েক মাস আগে বাঘমুন্ডি বিধানসভার ঝালদা-১ ব্লকের তুলিনের ২৪ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় নাম তুলতে আবেদন করেন সুদেশ। তারপর থেকে বাঘমুন্ডিতে তাঁর আনাগোনা বেড়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বকে নিয়ে একাধিক বৈঠকও করেছেন তিনি। আজসু সূত্রের খবর, রবিবারের বৈঠকে সুদেশ বাঘমুন্ডি বিধানসভায় বুথ ভিত্তিক সংগঠন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৫ আগস্টের আগে বুথ ও অঞ্চল ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন দলের নেতাদের। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে সন্তুষ্ট হলে জেলাস্তরের সম্মেলনও করতে পারেন তিনি। দলীয় কর্মীদের তিনি জানিয়ে গিয়েছেন, ‘আমি বারে বারে আসব। নেতিবাচক ভাবনার কোনও কারণ নেই।’ তবে তিনি আগামী বিধানসভা ভোটে বাঘমুন্ডি থেকে তিনি এনডিএ জোটের প্রার্থী হচ্ছেন কি না, তা জিজ্ঞেস করা হলে মুচকি হেসে এড়িয়ে যান তিনি। শুধু জানান, ‘এনিয়ে এনডিএ-র মধ্যে চর্চা চলবে। কিন্তু এখন আমাদের সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে।’ তবে, তাঁর এই ‘বারে বারে আসব’ মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে আজসুকে বাঘমুন্ডি আসনটি ছেড়েছিল বিজেপি। কিন্তু তাতে ফায়দা তোলে তৃণমূলই। প্রায় ১৪ হাজার ভোটে যেতেন তৃণমূল প্রার্থী সুশান্ত মাহাত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বাঘমুন্ডি আসনে ৫২ হাজার লিড ছিল বিজেপির। যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চও। কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনে আসনটি বিজেপি আজসুকে ছেড়ে দেওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিদ্রোহ চরমে ওঠে। জোট শরিক আজসুকে তাঁরা মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। ভোটের সময়েও দলের বহু গেরুয়া নেতা কার্যত দাঁড়িয়ে থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট করান। এবারেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে ছেড়ে কথা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন নেতাকর্মীদের একাংশ। নাম না প্রকাশের শর্তে এক বিজেপি নেতা বলেন, আজসুকে আসনটি ছাড়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। ঘুরিয়ে তৃণমূলকেই জেতানো হবে। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি কেদার সিং মুড়া বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ব্যাপার। আশা করছি গত বারের ভোটের ফলাফল দেখে দল সঠিক মূল্যায়নই করবে।