


নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারে বনদপ্তরের বিট অফিসার মিঠুন রায় ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়তে ওস্তাদ! গত দু’বছরে লোকালয়ে আসা ৩৫টিরও বেশি বন্যপ্রাণীকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করেছেন। আর এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রাজ্য বনমহোৎসবে ‘স্টেট ওয়াইল্ড লাইফ অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন তিনি। পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন। ১৪ জুলাই ঝাড়গ্রামে তিনি পুরস্কৃত হন। স্বাভাবিকভাবেই এ খবরে খুশির হাওয়া কোচবিহার বনদপ্তরে। বুধবার কোচবিহারের রাজবাড়ি উদ্যানে বনমহোৎসব পালন করা হয়। সারা বছরে জেলায় প্রায় ৫০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বনদপ্তরের কোচবিহারের এডিএফও বিজনকুমার নাথ বলেন, বন্যপ্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আমাদের বিট অফিসার মিঠুন রায় রাজ্য বনমহোৎসবে ওয়াইল্ড লাইফ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। গত দু’বছরে জেলায় যত বাইসন, হাতি লোকালয়ে এসেছে, তাদের ঘুমপাড়ানি গুলি করে কাবু করার ক্ষেত্রে তাঁর মুখ্য ভূমিকা ছিল।
কোচবিহার জেলার বনাঞ্চল সংগলগ্ন লোকালয়ে গত কয়েকবছর ধরে বাইসন চলে আসছে। কয়েকবার চিতাবাঘ ও হাতিও এসেছিল। লোকালয়ে এসে এই প্রাণিরা দাপিয়ে বেড়ায়। বন্যপ্রাণীর থেকে নিজেকে বাঁচাতে লোকজন ছোটাছুটি করেন। কৌতূহলবশত ছবি তুলতে গিয়েও অনেকে বন্যপ্রাণীর হামলায় জখম হন। সেই সময় বোঝা যায় বনদপ্তরের ট্রাঙ্কুলাইজিং টিমের গুরুত্ব ঠিক কতটা! দাপিয়ে বেড়ানো বাইসন বা হাতিকে ঘুমপাড়ানি গুলি করে বাগে আনা হয়। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজটি করে আসছেন বিট অফিসার মিঠুন। তাঁর অব্যর্থ নিশানায় বাইসন, হাতি ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু হয়। তারই স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর এই পুরস্কার। মিঠুন বলেন, কাজের স্বীকৃতি পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এটা দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।
এদিকে, বনমহোৎসব উপলক্ষ্যে এদিন রাজবাড়ি উদ্যানে প্যাডেল বোট চালু করা হল। বন্যপ্রাণীদের জন্য তৃণভূমি গড়ে তুলতে পাতলাখাওয়ার জঙ্গলে আড়াই লক্ষ ঘাসের চারা রোপণ করা হবে। জেলায় চার লক্ষ গাছের চারা বিতরণের জন্য ভ্রাম্যমাণ ভ্যান চালু করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিচ্ছেন মিঠুন রায়।