Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরের জঙ্গলের গ্রামে বাড়ছে হিংস্র পশুর হানা, ধূসর নেকড়ের সংখ্যাবৃদ্ধি

দুর্গাপুরের জঙ্গলমহলে ধূসর নেকড়ে, শেয়াল ও বিষধর সাপের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে।

দুর্গাপুরের জঙ্গলের গ্রামে বাড়ছে হিংস্র পশুর হানা, ধূসর নেকড়ের সংখ্যাবৃদ্ধি
  • ২০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের জঙ্গলমহলে ধূসর নেকড়ে, শেয়াল ও বিষধর সাপের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। এতে ঘন জঙ্গলে অবস্থিত বিভিন্ন আদিবাসী গ্রামের মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। ওই সমস্ত গ্রামের মানুষকে স্বনির্ভর করতে বিনামূল্যে হাঁসমুরগি ও গোরু-ছাগল দিয়েছিল সরকার। কিন্তু এখন তাঁদের গৃহপালিত পশুপাখি জঙ্গলের হিংস্র জন্তুর শিকার হচ্ছে। ক্ষুধার্ত নেকড়ে, শেয়াল ঘরের ভিতর থেকে গবাদি পশু টেনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতাপপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মাধব দে বলেন, এখন এলাকায় হিংস্র জন্তুর উৎপাত বেড়েছে। জঙ্গলের ভিতরে থাকা বিভিন্ন গ্রামে তাড়াতাড়ি পথবাতি বসানো হবে। বনদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েকবছরে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম, পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা ও দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকে ব্যাপক হারে জঙ্গল বৃদ্ধি পেয়েছে। বনদপ্তরের উদ্যোগে হাজার হাজার বৃক্ষরোপণ হওয়ায় বনাঞ্চল গড়ে উঠছে। এর জেরে নেকড়ে, শেয়ালের পাশাপাশি দেখা মিলেছে হায়নার দলের। করোনা সঙ্কটের সময় ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকে ওই সমস্ত হিংস্র জন্তু দুর্গাপুরের জঙ্গলমহলে ঢুকে পড়ে। সেসময় বনদপ্তরের ট্র্যাপ ক্যামেরায় গুটিকয়েক জন্তুর ছবি ধরা পড়েছিল। এখন তাদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছে। জঙ্গলে পর্যাপ্ত খাবার না জোটায় সেখানকার বিভিন্ন গ্রামে শিকারের খোঁজে তারা হানা দিচ্ছে।

Advertisement

গত সপ্তাহে বনদপ্তর দুর্গাপুর সিটিসেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে নেকড়ে বাঁচাও কর্মশালা আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে দক্ষিণবঙ্গের মুখ্য বন সংরক্ষক বিদ্যুৎ সরকার বলেন, আউশগ্রাম, কাঁকসা ও দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের জঙ্গলে  ধূসর নেকড়ের সংখ্যা বাড়ছে। এখন প্রায় ৪০টি নেকড়ে রয়েছে। কয়লাখনি অঞ্চলে পরিত্যক্ত জঙ্গলে ট্র্যাপ ক্যামেরায় প্রায় সাতটি হায়নার ছবি ধরা পড়েছে।
কাঁকসার গড় জঙ্গলের একটি গ্রামের বাসিন্দা মায়াবতী মাল বলেন, হিংস্র জীবজন্তু আমাদের হাঁস, মুরগি ও ছাগল খেয়ে নিচ্ছে। গ্রামে প্রায় প্রতিদিনই তাদের আনাগোনা লেগে রয়েছে। আতঙ্কের মধ্যেই জঙ্গলে গোরু-ছাগল চরাতে হয়।
দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের বাঁশিয়া গ্রামের বাসিন্দা লখিন্দর সোরেন বলেন, এলাকায় বিশাল জঙ্গল গড়ে ওঠায় হিংস্র জীবজন্তুর সংখ্যা বেড়েছে। তারা আমাদের পোষা পশুপাখি খেয়ে নিচ্ছে। এই জঙ্গলে চারটি আদিবাসী গ্রাম রয়েছে। এখানে পথবাতি বসানো হলে আমাদের আতঙ্ক অনেকটাই কাটবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ