সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর প্রেমিককে শ্বাসরোধ করে খুন! সেই অভিযোগে বৃহস্পতিবার ইন্দাস থানার পুলিশ এক যুবক ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম অনুপ রুইদাস ও মালা রুইদাস। তাদের বাড়ি ইন্দাসের আমরুল গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, কিছুদিন আগে ইন্দাসের আমরুল গ্রামের বাসিন্দা ভানু রুইদাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় মৃতের মা পূর্ণিমা রুইদাস তাঁর ছেলেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক ছিল। বৃহস্পতিবার মূল অভিযুক্ত অনুপ ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আমরুল গ্রামের ভানু রুইদাস ওরফে উমার সঙ্গে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা অনুপ রুইদাসের স্ত্রী মালার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। প্রায় ছ’মাস আগে তারা দু’জনে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তার এক মাস পরে মালা তার শ্বশুরবাড়িতে একাই ফিরে আসে। ভানু বাইরে শ্রমিকের কাজ করত। তাই ভানুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তাঁর পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন যে, তিনি নিজের কর্মস্থলেই রয়ে গিয়েছেন। কিন্তু মালা গ্রামে ফেরার চারদিন পর তাদের বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে পুকুরের পাড়ে একটি বটগাছ থেকে গলায় কাপড়ের ফাঁস লাগানো অবস্থায় ভানুকে ঝুলতে দেখেন গ্রামবাসীরা। এরপর তাঁরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠায়। তবে, মৃতদেহ উদ্ধারের সময় দেহের অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মানতে রাজি হননি পরিবারের লোকজন। গ্রামবাসীদেরও এনিয়ে সন্দেহ হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সস্ত্রীক অনুপ ও তার পরিবারের লোকজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। এতে সকলের সন্দেহ আরও তীব্র হয়। এরপরেই মৃতের মা পূর্ণিমা রুইদাস ছেলেকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। বৃহস্পতিবার মূল অভিযুক্ত অনুপ ও তার স্ত্রী মালাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগকারিণী পূর্ণিমা রুইদাস বলেন, আমার ছেলের ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখে গ্রামের লোকজন বলাবলি করতে থাকে, এটা আত্মহত্যা নয়, খুন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মালা রুইদাস ছল করে আমার ছেলেকে নিজের ঘরে ডেকে আনে। তারপর বাড়ির লোকজনের সহায়তায় আমার ছেলেকে শ্বাসরোধ করে মেরে বটগাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে। খুনের আগে আমার ছেলেকে প্রচুর পরিমাণে মদ খাওয়ানো হয়েছিল। তার কারণ, মৃতদেহ উদ্ধারের পর আমার ছেলের মুখ থেকে মদের গন্ধ বের হচ্ছিল। আমি দোষীদের চরম শাস্তি চাই। -নিজস্ব চিত্র